বিজ্ঞাপন

ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, সড়ক, ফুটপাত ও নর্দমা উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পের ১৭ নম্বর প্যাকেজের আওতায় সড়কটি সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী মূল সড়কের (ক্যারেজওয়ে) ৫২ ফুট প্রশস্ত হওয়ার কথা ছিল, সঙ্গে পানিনিষ্কাশন নালা ও প্রশস্ত ফুটপাত। রাস্তার মাঝে প্রশস্ত বিভাজক নির্মাণের পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু ব্যবসায়ীদের ‘চাপের মুখে’ কিছু জায়গা তাঁদের জন্য ছেড়ে দিতে হচ্ছে। এতে উদ্ধার করা জায়গার পুরোটা সড়কের জন্য ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

সড়ক সরু করে স্ট্রিট মার্কেট করার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলামের প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই কাজে স্থানীয়দের বাধা ছিল, এটা অস্বীকার করছি না। তবু রাস্তার কাজ শুরু হচ্ছে।’ আটকে পড়া পাকিস্তানি ও ব্যবসায়ীদের প্রতি ‘মানবিক কারণে’ স্ট্রিট মার্কেট করা হচ্ছে জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘তারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে আছে। স্থানীয় সাংসদ এ বিষয়ে অনুরোধ করেছেন। এ ছাড়া ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের জন্য স্ট্রিট মার্কেটের মতো কিছু করার পরিকল্পনা আছে আমাদের। সে জন্যই পরীক্ষামূলকভাবে সেখানে ছাউনি করা হচ্ছে। তবে কোনো ব্যবসায়ী এর মালিক হবেন না।’

গত জানুয়ারিতে অভিযান চালিয়ে এই সড়কের পাশ থেকে কয়েক শ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ডিএনসিসি।

ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, স্ট্রিট মার্কেটের কারণে মূল সড়ক হয়ে যাবে ৪১ ফুট। সরু হয়ে যাবে সড়ক বিভাজকও।

স্ট্রিট মার্কেট বানানোর সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযানের পর নানা দিক থেকে আসা চাপের কারণে রাস্তার কাজ করা যায়নি। কাজ করতে গিয়ে বাধার মুখে ফিরে আসতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের বসার ব্যবস্থা করে সংস্কারকাজ শুরু করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, মার্কেট নির্মাণের জন্য সিটি করপোরেশন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১৬ কোটি টাকা নিয়েছে। ২০০৮ সালে পল্লবীর প্যারিস রোডে মার্কেটও নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ওই মার্কেটে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলে তাঁরা স্বেচ্ছায় রাস্তা ছেড়ে চলে যাবেন।

সড়ক সংস্কার প্রকল্পের পরিচালক ডিএনসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আশা করছি আর কোনো বাধা আসবে না। প্রকল্পের মেয়াদকাল ৩০ জুনের মধ্যেই সংস্কারকাজ শেষ করে সড়ক চালু করে দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ সড়কের জন্য যেটুকু জায়গা দিয়েছে (৬৮-৭৫ ফুট), তা-ই থাকছে। শুধু ব্যবসায়ীদের বসার সুযোগ করে দিতে মূল রাস্তা ছোট করা হয়েছে। এই জায়গায় ছাড় দিতে হয়েছে।

এই প্রকৌশলী জানান, নতুন পরিকল্পনায় সড়কে শেড নির্মাণ, গণশৌচাগার ও পার্কিং যুক্ত করা হয়েছে। এগুলো আগের প্রকল্পের মধ্যে না থাকায় এই কাজের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে হবে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন