বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১৯ সালের ২০ জুলাই বাড্ডায় স্কুল প্রাঙ্গণে ‘ছেলেধরা’ গুজবে তাসলিমা বেগমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর এই দুই শিশুসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।

মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক ১৩ আসামি হলেন হৃদয় ইসলাম মোল্লা ওরফে ইব্রাহীম ওরফে নয়ন মোল্যা, সোহেল রানা, মহিউদ্দিন, রিয়া বেগম, আবুল কালাম, কামাল হোসেন, শাহিন, বাচ্চু মিয়া, শহিদুল ইসলাম, মুরাদ মিয়া, আসাদুল ইসলাম, বিল্লাল মোল্লা ও মো. রাজু। তাঁদের মধ্যে হৃদয় ইসলাম, সোহেল রানা ও মহিউদ্দিন কারাগারে। অন্য ব্যক্তিরা জামিনে।

মামলার কাগজপত্রের তথ্য বলছে, এই মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন রিয়া বেগম, হৃদয় ইসলামসহ তিনজন। তাঁদের জবানবন্দিতে উঠে আসে, আসামি রিয়া বেগম সেদিন ঘটনার উসকানি দিয়েছিলেন। হৃদয় ইসলাম মামলার প্রধান আসামি। তিনি স্কুলের পাশে সবজি বিক্রি করতেন। তিনিই তাসলিমাকে প্রথমে লাঠিপেটা করেন। আর জাফর প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে তাসলিমাকে চুলের মুঠি ধরে টেনেহিঁচড়ে দেয়ালের সঙ্গে আঘাত করতে থাকেন।

২০১৯ সালের ২০ জুলাই সকালে উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাসলিমা তাঁর চার বছরের মেয়েকে ভর্তি করানোর বিষয়ে খোঁজ নিতে যান। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন নারী তাঁকে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহ করেন। এই গুজব দ্রুত বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশ থেকে বিভিন্ন বয়সী কয়েক শ নারী-পুরুষ স্কুল প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়েন। তাঁদের কবল থেকে রক্ষা করতে তাসলিমাকে স্কুলের দোতলায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে রাখা হয়। এর মধ্যে কয়েকজন বিদ্যালয়ের কলাপসিবল গেট ভেঙে দোতলায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে তাসলিমাকে টেনেহিঁচড়ে নিচে নামিয়ে পেটাতে শুরু করেন। প্রায় আধঘণ্টা নির্যাতনের পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তাসলিমা। তাসলিমার ভাগনে সৈয়দ নাসির উদ্দিন ওই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৪০০-৫০০ ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছিলেন।

নিহত তাসলিমা ইডেন কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেছিলেন। পরে তিনি সরকারি তিতুমীর কলেজে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর করেন। তিনি দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন