default-image

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপনে লালবাগ কেল্লার হাম্মামখানা পুনরুদ্ধারে অর্থায়নের চেয়ে ভালো কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লার সাংস্কৃতিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রামাণ্য সংরক্ষণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ অ্যাম্বাসেডর ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন (এএফসিপি) বছরব্যাপী এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার লালবাগ কেল্লায় এ অনুষ্ঠান হয়। ড্রোনের মাধ্যমে কেল্লার ত্রিমাত্রিক প্রত্নতাত্ত্বিক প্রামাণ্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রতীকী ড্রোন ওড়ানোর কর্মসূচিতেও অংশ নেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

মিলার বলেন, ‘সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মূল্যবোধের মধ্যে নিহিত আমাদের বন্ধুত্বকে আরও জোরদার করার জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর নেই। বাংলাদেশের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার সহায়তায় এর চেয়ে ভালো সময় আর হতে পারে না।’

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চালু হওয়া প্রকল্প ‘কেল্লার হাম্মাম খানার পুনর্গঠন, সংস্কার ও ত্রিমাত্রিক প্রত্নতাত্ত্বিক প্রামাণ্য সংরক্ষণ’ করা হবে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে। এ ছাড়া প্রকল্পের অধীনে গবেষণা ও তথ্য-উপাত্ত নথিভুক্ত করার পাশাপাশি ভবনের বৈদ্যুতিক কাজ ও পানিনিষ্কাশন–ব্যবস্থার উন্নয়নও করা হবে।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অগ্রগতি অসাধারণ উল্লেখ করে মিলার বলেন, ৫ দশক ধরে দুই দেশ অর্থনীতি, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য, শিক্ষা বিস্তার ও জাতির অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করেছে। তিনি বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ ঘুরে দেখেছেন, শুনেছেন আঞ্চলিক গান, খেয়েছেন স্থানীয় খাবার।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতেও সংস্কৃতির বিনিময়, জ্ঞান বিনিময় কার্যক্রম—দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, ‘সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বৈচিত্র্য রক্ষায় আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এমন আরও সহযোগিতা চাইছি।’

default-image

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মতে, অসম্পূর্ণ লালবাগ কেল্লা নির্মিত হয়েছিল ১৬ শতকে। কেল্লার ভেতর রয়েছে একটি মসজিদ, পরীবিবির মাজার ও হাম্মামখানা।
১৬৭৮ সালে মোগল সুবেদার মুহাম্মদ আজম শাহ এটির নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন। ১৯৯৯ সালে লালবাগ কেল্লা বাংলাদেশের ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য সম্ভাব্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। আর দুইতলা হাম্মামখানা মোগল সুবাদারদের দরবার হল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে এটি একটি জাদুঘর।

অন্য দেশের সংস্কৃতি সংরক্ষণে রাষ্ট্রদূতের তহবিল (অ্যাম্বাসেডর ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন) বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোর একটি। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে এমন ১১টি প্রকল্পকে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন