লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি চলছে গ্যাসশেডিং: রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
ফাইল ছবি

ভোট ডাকাতির ‘মাফিয়া’ সরকার পুরো দেশকেই নরকপুরীতে পরিণত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘দেশ শেখ হাসিনার হাতে থাকলে অচিরেই শ্রীলঙ্কার মতো করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে।’

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন। এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামে আগুন, রাস্তায় সীমাহীন যানজট, বাসাবাড়িতে বিদ্যুতের লোডশেডিং, ওয়াসার পানিতে ময়লা, ডায়রিয়ার প্রকোপ, রান্নার গ্যাসের সংকট, সিলিন্ডার গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিসহ নাগরিক দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সরকারের ব্যর্থতা ও অব্যবস্থাপনায় রমজান মাসের শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এখন বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি গ্যাসশেডিং চলছে। তীব্র গ্যাস–সংকটের কারণে অনেকে ইফতারিও তৈরি করতে পারছেন না। বাসায় যখন গ্যাস নেই, তখন আরেক দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে এলপিজির দাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘অন্যদিকে রাজধানীর যানজট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ঘর থেকে বেরোলেই স্থবির হয়ে যায় জীবন। যানজটে অলিগলি, প্রধান সড়ক—সর্বত্রই এখন স্থবিরতা। এর জন্য দায়ী ভোট ডাকাতির সরকারের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘করোনা মহামারির প্রকোপ কমলেও এখন রাজধানীবাসীর আরেক আতঙ্কের নাম ডায়রিয়া। প্রতিদিন হাজারের বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে অভিভাবক মহল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াসার দূষিত পানির কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে।’

দলের নেতা ইশরাক হোসেনকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে প্রচারপত্র বিলি করার সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা কাপুরুষোচিত ও ন্যক্কারজনক।’ তিনি অবিলম্বে ইশরাকের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মতিঝিলের ঘরোয়া হোটেলের সামনে থেকে ইশরাককে গ্রেপ্তার করে মতিঝিল থানা-পুলিশ। ২০২১ সালে গাড়ি পোড়ানোর একটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।