default-image

‘দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। জিনিসপত্র আর কি কিনব! সামনে ঈদ; না হলে কেনাকাটায় আসতামই না। কেনাকাটা শেষ করে যে এখন ফিরব কীভাবে তাও জানি না! ’—বিকেল চারটার দিকে রাজধানীর গাউছিয়ার সামনে হাঁপাতে হাঁপাতে বলছিলেন হুমায়রা সামিয়া। 

ইচ্ছা-অনিচ্ছা যা-ই থাকুক না কেন; আজ ছুটির দিন শনিবার সামিয়ার মতো অসংখ্য মানুষ পা বাড়িয়েছেন বিপণি বিতানের দিকে। কেউ বাসে-কেউ গাড়িতে করে আসছেন কেনাকাটায়। আর এ কারণেই যানজটের ফাঁদে আটকে গেছে পুরো ঢাকা শহর। এর সঙ্গে ভ্যাপসা গরম। সব মিলিয়ে অস্থির ছুটোছুটি ছিল নগরজুড়ে।
যান-জনতার এতটাই চাপ যে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাজপথে থেকেও কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে যাওয়া যাচ্ছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টার থমকে থাকতে হচ্ছে রাজপথে। রাজপথে থাকলেও বাস-গাড়ির চাকা ঘুরছে না, আর ঘুরলেও চাকার গতি ছিল মন্থর। মহাখালী থেকে শাহবাগ, নিউমার্কেট থেকে কারওয়ান বাজার-সরেজমিন ঘুরে এমন দৃশ্যই ছিল ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে।
অসংখ্য গণপরিবহন। যাত্রীতে ঠাসা। ওঠার উপায় নেই। বাধ্য হয়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে ছুটতে দেখা গেছে ব্যস্ত মানুষদের।
ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, বেলা ১২টা থেকে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। আর এতে করে অনেকটাই অচল হয়ে যায় নিউ মার্কেট, বসুন্ধরার শপিং সেন্টারের সামনের সড়কগুলো। এসব এলাকার যানজট ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়।
নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, নিউমার্কেট এলাকায় যানবাহনের চাপে শাহবাগ, ধানমন্ডির সড়কগুলোতে যানজট হয়। একইভাবে বসুন্ধরা শপিং সেন্টারের সামনে যানজটের কারণে একদিকে ফার্মগেট অন্যদিকে রূপসী বাংলা হোটেলের সামনে রয়েছে গাড়ির দীর্ঘ লাইন।
বাংলামোটরের সামনে নজরুল ইসলাম নামে এক পথচারী বলেন, ‘বেলা একটার দিকে যাত্রাবাড়ী থেকে গুলিস্তান এসেছি। কিন্তু বাস না পেয়ে হাঁটা শুরু করেছি।’
ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, রমজান মাসের বাকি দিনগুলোতে যানজট খুব একটা কমবে না। বরং বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও ভিড় বাড়বে। রমজানের সামনে ছুটির দিনগুলোতে যানজট আরও বেড়ে যাবে।
তেজগাঁও ট্রাফিক জোনের সহকারী কমিশনার রাজিব দাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিপণি বিতানগুলোর সামনে যানবাহনের চাপ বেশি। তাই যানবাহন ধীরে চলছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের রাখার চেষ্টা চালাচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0