পুলিশের এই উপস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীরা ‘সড়ক হত্যার শিকার ব্যক্তির প্রতীকী লাশ’ নিয়ে শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা পর্যন্ত মিছিল করেন। রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে তাঁরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। আগামীকাল সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বালন ও প্রতিবাদী গানের আসর করবেন তাঁরা।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ দুপুর ১২টায় শাহবাগে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দের’ ব্যানারে ৯ দফা দাবিতে প্রতীকী লাশের মিছিল শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার কিছুক্ষণ আগে থেকেই ৩৫-৪০ পুলিশ সদস্য শাহবাগ মোড়ে রাস্তার পাশে অবস্থান নেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনের রাস্তা থেকে প্রতীকী লাশ নিয়ে মিছিল বের করেন ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য শিক্ষার্থীদের মিছিলকে অনুসরণ করছিলেন।

মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে গিয়ে মিনিট দুয়েক অবস্থান করলে পুলিশ সদস্যরা পুরো মিছিলটিকে ঘিরে রাখেন। পরে মিছিলটি টিএসসি এলাকার দিকে যাত্রা করে। এ সময় শাহবাগ পুলিশ বক্সের সামনে মিছিলের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদেরও ধাক্কা দেন অতিরিক্ত উপকমিশনার হারুন অর রশীদ। পরে মিছিল নিয়ে টিএসসি এলাকায় যান শিক্ষার্থীরা। মিছিলে ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘শ্রমিক-ছাত্র ভাই ভাই, নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘জাস্টিস, জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আইন করে হাফ পাস, দিতে হবে দিয়ে দাও’ প্রভৃতি বলে স্লোগান দেওয়া হয়।

পরে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা মোহিদুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে। দাবি আদায়ে আগামীকাল সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোমবাতি দিয়ে “আমরা নিরাপদ সড়ক চাই” লিখব। সঙ্গে থাকবে প্রতিবাদী গানের আসরও। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় করেই আমরা ফিরব।’

ইনজামুল হক নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আজ ১৮টি জেলায় একযোগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বরিশালে কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্য ঢাকার আজকের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তাঁরা তাঁদের দাবিসংবলিত স্মারক পৌঁছে দেবেন।