ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এ টি এম মইনুল হোসেন রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যখন হল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা শুনল, তখন তারা বিক্ষুব্ধ হয়। সবাই এসে আমার রুমের সামনে বিক্ষোভ করে। বিষয়টি এমন না যে আমি অবরুদ্ধ ছিলাম। আমি ক্যাম্পাসেই আছি সারা দিন।’

ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ আরও বলেন, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত আছে হল ছেড়ে দিতে হবে। যেহেতু শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাবে, এ জন্য তারা হলে রাতটা আছে। অনেকের বাড়ি দূরদূরান্তে। এ কারণে আমরা একটু স্লো আছি। কাল সকালের মধ্যে দেখি কী অবস্থা দাঁড়ায়।

শিক্ষার্থীরা আগামীকালের মধ্যেই হল ছাড়বেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যে সিদ্ধান্ত, সেটা আমরা বাস্তবায়ন করব।’

default-image

রাজধানীর নিউমার্কেটের একটি খাবারের দোকানের কর্মীদের সঙ্গে বচসা হয় ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর। এর জের ধরে সোমবার গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ী ও দোকানিদের সংঘর্ষ হয়। তাতে কয়েকজন আহতও হন। পুলিশ আসে, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে। সংঘর্ষ রাত আড়াইটা পর্যন্ত গড়ায়।

সাহ্‌রির সময় ঘনিয়ে আসায় দুই পক্ষ যখন রণে ক্ষান্ত দেয়, তখন পুলিশও চলে যায়। কিন্তু রাতের এই সংঘর্ষ সেখানেই শেষ হয়নি। এর জেরে মঙ্গলবার সকাল ১০টার পর ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় জড়ো হন মানববন্ধনের জন্য। এ সময় নিউমার্কেটসহ আশপাশের কয়েকটি মার্কেটের দোকানিরা বেরিয়ে এলে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। দফায় দফায় সংঘর্ষে বন্ধ হয়ে যায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মিরপুর সড়ক। শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এর প্রভাব পড়ে নগরের অন্যান্য এলাকার সড়কে। নিত্য যানজটের এ শহরে যোগ হয় চরম ভোগান্তি। সংঘর্ষ শুরুর তিন ঘণ্টা পর পুলিশ এসে আবার কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তারপরও থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন