উত্সবের প্রথম দিন অনুষদের ওসমান জামাল মিলনায়তনে ছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ‘শিল্পগুরুর শিল্পসাধনা’ শীর্ষক বক্তৃতা। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিল্পীদের ছাপচিত্র সমন্বিত একটি পোর্টফোলিওর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন শিল্পী রফিকুন নবী। তিনি বলেন, ‘সফিউদ্দীন স্যারকে শিক্ষক হিসেবে পেয়েছিলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন কী করবে? কিছু না বুঝেই বলেছিলাম, কাঠখোদাই করব। তিনি বলেছিলেন, এটা খুব কঠিন ও শ্রমসাধ্য মাধ্যম। নিরুনি দিয়ে কাজ করতে হয়। উল্টাপাল্টা হলে হাত কেটে যেতে পারে। তখন স্যারকে বলেছিলাম, এর চেয়ে পেইন্টিং সহজ। আমাকে দিয়ে ছাপচিত্র হবে না। পরে যখন বিদেশ থেকে উডকাটের ওপর পড়াশোনা করে ফিরলাম, তিনি খুব প্রশংসা করেছিলেন। বলেছিলেন, “যে মাধ্যমকে তুমি ভয় পেতে, সেই মাধ্যমেই তুমি বিদেশি ডিগ্রি নিয়ে এলে।” তাঁর সেই অনুপ্রেরণা আমাকে আজও উদ্দীপ্ত করে।’

বক্তৃতায় শিল্প-সমালোচক সৈয়দ আজিজুল হক বলেন, সফিউদ্দীন আহমেদ শিল্পচর্চায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। মানুষটি জীবনকে গভীরভাবে অনুধাবন করেছেন, যেখানে খ্যাতি বা অর্থের মোহকে এড়িয়ে তিনি শুধু শিল্পকেই উপলব্ধির চেষ্টা করেছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ছেলে প্রকৌশলী ময়নুল আবেদিন ও শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালক মিনি করিম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উত্সব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক রোকেয়া সুলতানা ও সফিউদ্দীনের ছেলে আহমেদ নাজির।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ছাপচিত্র বিভাগের চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান ও অনুষদের ডিন নিসার হোসেন। নিসার হোসেন বলেন, সফিউদ্দীন আহমেদের অহেতুক কোনো কাজের দেখা মেলে না। তার জন্মশতবর্ষের এই আয়োজনটি বছরজুড়ে হওয়া উচিত।

শুক্রবার উৎসবের দ্বিতীয় দিনে ছাপচিত্র বিভাগের পুনর্মিলনী। দেশের প্রখ্যাত সাত শিল্পীকে ‘শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদ জন্মশতবার্ষিকী-২০২২’ সম্মাননা প্রদান করাও হবে এদিন। শিল্পীরা হলেন মোহাম্মদ কিবরিয়া (মরণোত্তর), রফিকুন নবী, মনিরুল ইসলাম, মাহমুদুল হক (মরণোত্তর), কালিদাস কর্মকার (মরণোত্তর), শহীদ কবির ও সৈয়দ আবুল বার্‌ক্‌ আলভী। এ ছাড়াও থাকবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

‘পরম্পরায় ছাপচিত্র’ প্রদর্শনীতে উডকাট, এচিং, ড্রাইং পয়েন্ট, অ্যাকুয়াটিন্ট, লিথোগ্রাফ, সেরিগ্রাফসহ ছাপচিত্রের প্রায় সব মাধ্যমে করা কাজ ঠাঁই পেয়েছে। দেখা যাবে সফিউদ্দীনের সাঁওতাল নারী, কান্না, বন্যাসহ বিখ্যাত ছবিগুলো। ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন