রোজিনাসহ উত্তরার কামরুন্নেসা খাতুন ফাউন্ডেশনের (কেকেএফ) আশ্রয়কেন্দ্রের মোট ৭০ জন শিক্ষার্থী এসেছিল রাজধানীর বিজয় সরণিতে। উদ্দেশ্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভো থিয়েটার ও বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর দেখা। দুপুরের দিকে দেখা হয় এই শিশুদের সঙ্গে।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ছিন্নমূল শিশুসহ সব শ্রেণির মানুষের জন্য আজ বিনা মূল্যে নভো থিয়েটার ও সামরিক জাদুঘর উন্মুক্ত ছিল।

default-image

আশ্রয়কেন্দ্রটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিফাত রহমান তানভীর বলেন, ‘স্বাধীনতা দিবসে শিশুদের দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে নিয়ে এসেছি। করোনার কারণে দুই বছর স্কুল ছাড়া একেবারে বের হওয়া হয়নি। আর উপলক্ষ ছাড়া বের হওয়া হয় না। তাই শিশুদের নিয়ে আসা।’

নভো থিয়েটার ও সামরিক জাদুঘরে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নানা সংগঠনের শিশু-কিশোর, স্কুল-কলেজশিক্ষার্থীরা ছাড়াও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছিলেন অনেকে। নভো থিয়েটারের সহকারী কিউরেটর শহিদুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে তুলনামূলক বেশি ভিড় হচ্ছে।

default-image

সামরিক জাদুঘর ঘুরে বের হচ্ছিল বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার্থী সিনহা সুলতানা। মা–বাবা ও দুই ভাইবোনের সঙ্গে এসেছে সে। সিনহা সুলতানা বলে, ‘নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী যুদ্ধের সময় অনেক কিছু ব্যবহার করেছিল। এগুলো শুধু বইয়ে পড়েছি। আজ দেখে ভালো লাগছে।’

সিনহা সুলতানার মা শিখা হক প্রথম আলোকে বলেন, বাচ্চাদের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে পরিচিত হওয়া দরকার। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে না জানলে আদর্শ নাগরিক হতে পারবে না।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় সংসদের সামনে কোনো আয়োজন না থাকলেও সেখানে অনেকেই এসেছিলেন ঘুরতে। বেলা ১১টার দিকে গিয়ে একদল মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে দেখা যায়। গাইবান্ধার ফয়েজী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হামিউস সুন্নাহ মাদ্রাসা থেকে এসেছে তারা।

default-image

মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা শাহ আলম ফয়েজী প্রথম আলোকে বলেন, এখানে সবাই এতিম। কারও বাবা নেই, কারও মা নেই। শিশুগুলোকে একটু আনন্দ দিতে এখানে নিয়ে আসা। বাচ্চারা যাতে স্বাধীনতা দিবসে একটু উন্মুক্তভাবে ঘুরতে পারে। সংসদ ভবন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এগুলো দেখে যাতে তাদের দেশপ্রেম আরও বেশি করে জাগ্রত হয়।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সদরঘাটে জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ বানৌজা ‘অদম্য’। বেলা দেড়টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উন্মুক্ত ছিল এ জাহাজ। বিকেল চারটায় প্রতিবেদক সেখানে থাকা পর্যন্ত ৪০০–এর মতো মানুষ পরিদর্শন করে এ জাহাজ।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমিন ফেরদৌস মালিবাগ থেকে দেখতে এসেছেন যুদ্ধজাহাজটি। সংবাদপত্রে এ প্রদর্শনীর খবর পেয়ে এসেছেন তিনি। শারমিন ফেরদৌস প্রথম আলোকে বলেন, ‘যুদ্ধজাহাজ প্রথম দেখার অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। যুদ্ধে সরঞ্জাম কেমন থাকে, সৈনিকেরা কীভাবে যুদ্ধ জাহাজ হ্যান্ডেল করে, তা কিছুটা বুঝতে পেলাম। যুদ্ধ যুদ্ধ একটা অনুভূতি কাজ করছে।’

default-image

মো. শাকিল ছোট ভাইকে নিয়ে এসেছেন যুদ্ধজাহাজ দেখতে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘খুবই উত্তেজিত। সাধারণত এমন জাহাজ দেখার সুযোগ নেই। এটা স্বপ্নের মতো। দেখার পাশাপাশি কোনটা কীভাবে কাজ করে, সেটাও জানলাম।’

জাহাজের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কামান, লাইফ বোটসহ জীবনরক্ষাকারী নানা সরঞ্জাম রয়েছে এ জাহাজে। যুদ্ধ করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারের কাজে এ জাহাজ ব্যবহৃত হয়।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন