বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
করোনার শুরু থেকেই পার্কটি বন্ধ। এক বছরে কোনো কাজ হয়নি। আমরা তাগিদ দেওয়ার পর এখন একটু হচ্ছে।
ইভা রহমান, সদস্য, গুলশান সোসাইটির লেক পার্ক ব্যবস্থাপনা কমিটি

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দাবি, সার্ভিস ব্লকের কাজ ৭৫ ভাগ শেষ। দুটি ফটক নির্মাণের কাজের অগ্রগতিও প্রায় ৮০ ভাগ। যদিও নকশাসংক্রান্ত জটিলতায় পরিকল্পনায় থাকা অন্য একটি ফটকের কাজ এখনো শুরুই হয়নি। আর হাঁটার পথের কাজের অগ্রগতিও ২০ ভাগের মতো। কাজ বিলম্বের কারণ নকশা পরিবর্তন।

ডিএনসিসির পরিবেশ সার্কেলের প্রকৌশলীরা বলছেন, পার্কের চারপাশের সীমানাদেয়াল হবে স্বচ্ছ কাচের। উচ্চতা ১৫ ফুট। কাচের দেয়ালের কারণে সরাসরি বাতাস চলাচল করবে না। তা ছাড়া রাস্তার যানবাহন থেকে সৃষ্ট উচ্চ শব্দ কমাবে এই কাচ। তবে কাচের দেয়াল যেহেতু উঁচু হবে, তাই পাখির চলাচলে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, এ কারণে কাচে সমান্তরাল অস্বচ্ছ রেখা বা বার্ড স্ট্রিপ থাকবে।

এ ছাড়া পার্কে শরীরচর্চার জন্য নির্ধারিত জায়গা থাকবে। যেখানে ব্যায়াম করার কিছু উপকরণ দেওয়া থাকবে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে পার্কটিতে। কিছু পানি নিষ্কাশিত হবে, কিছু পানি নালার মাধ্যমে জলাশয়ে গিয়ে জমবে। এ ছাড়া সার্ভিস ব্লকের ছাদ থেকে সামনের দিকে ঢালু হয়ে কৃত্রিম টিলা থাকছে। টিলায় সবুজ তৃণভূমি থাকবে।

মেয়াদ বাড়িয়েও কাজ না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করছেন গুলশান-১, নিকেতন ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা। এ বিষয়ে গুলশান সোসাইটির লেক পার্ক ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ইভা রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনার শুরু থেকেই পার্কটি বন্ধ। এক বছরে কোনো কাজ হয়নি। আমরা তাগিদ দেওয়ার পর এখন একটু হচ্ছে।’

এ বিষয়ে স্থপতি মো. খালিদ মনসুর বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পার্কের হাঁটার পথের কাজ শেষ করা হবে। তবে পুরো সংস্কারকাজ শেষ করার বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।

নকশা পরিবর্তনের কারণেই পার্ক সংস্কারে দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের পরিচালক ও ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তারিক বিন ইউসুফ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) নকশার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিস্তারিত নকশা তৈরিতে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। মূলত এ কারণেই দেরি হচ্ছে। তবে অক্টোবরের পর সময় বাড়ানো লাগলে কার্যাদেশের শর্তাবলি অনুযায়ী ঠিকাদারের শাস্তি হবে বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক নাজমুল ইমাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘পার্কের জন্য আমরা যে নকশা করেছিলাম, ঠিকাদার ওই নকশা অনুযায়ী কাজ করতে পারছিল না। পরে ওরা (ঠিকাদার) অনুরোধ করে, নকশা বদলে একটু সহজ করে দেওয়া হোক।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন