ঘটনার পর ১০ দিনের মাথায় গতকাল বৃহস্পতিবার কামরাঙ্গীরচরে নাহিদের বাড়িতে গিয়ে কথা হলো, নাহিদের স্ত্রী ও মা–বাবার সঙ্গে। এদিনই নাহিদকে ‘হত্যায় জড়িত’ ঢাকা কলেজের পাঁচজন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় পুলিশ। নাহিদের হত্যার ঘটনায় থানায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন তাঁর চাচা মো. সাইদ।

নাহিদের স্ত্রী ও মা–বাবার চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। চোখেমুখে অনিশ্চয়তার ছাপ। নাহিদের মৃত্যুতে দোকান মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন গ্রুপ ও প্রতিষ্ঠান আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছে। সেসব সহায়তা পেতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, স্ত্রী বা মা–বাবা কে কত পাবেন, তা নিয়েও হিসাব–নিকাশ শুরু হয়েছে।

নাহিদের মা নার্গিস বললেন, ‘সেহেরি খাওয়ার সময় ছেলে জানতে চাইছিল—মা, সেহেরি খাইবা না? ওই আন্ধারেই ছেলেরে একটু দেখছিলাম। সরাসরি আর কোনো কথা হয় নাই, এই জীবনে তো আর কথা হইবও না।’

নাহিদের মা–বাবা জানালেন, এবার ঈদে নাহিদ তাঁর শ্বশুরবাড়িতে তাঁদের ঘুরতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। ঈদের কোনো কেনাকাটা হয়নি, নাহিদ মারা যাওয়ার পর তো কেনাকাটার প্রশ্নই আসেনি। নাহিদের মা নার্গিস বললেন,‘এইবার কি আর ঈদ হইব? শোক পালন করতে করতে যাইব ঈদ।’

মায়ের কাছ থেকে একটু জমি পেয়েছিলেন নার্গিস, তাতেই ইটের গাঁথুনি দিয়ে তিনতলার (একটি করে ঘর) একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। নাহিদের মা–বাবা দোতলায় আর নাহিদ ও তাঁর স্ত্রী তিনতলায় থাকতেন। নাহিদের ঘরটিতে বলতে গেলে কোনো আসবাবপত্রই নেই। নাহিদ সাত হাজার টাকা বেতন পেতেন। সেই টাকা দিয়েই স্ত্রী, বাবা, মা, ছোট দুইয়ের খাবার খরচ দিতেন। এই বাড়ি করার জন্য ঋণ নিয়েছিলেন, তা পরিশোধ করতেন নাহিদের বাবা।

এখন খাবারের খরচও তাঁকেই দিতে হবে। ছেলের জন্য শোকের চেয়ে এ চিন্তাটাই প্রাধান্য পাচ্ছে। নাহিদের বাবা নাদিম বললেন, ‘খুব কষ্ট হবে চলতে। ছেলে মরাতে একা আর অসহায় হইয়্যা গেলাম। বড় ছেলে ছিল, ভরসা পাইতাম।’ নাহিদের স্ত্রী ডালিয়া সামনের দিনগুলোতে চলার জন্য সরকারের কাছে একটি চাকরি চাইলেন।