default-image

‘২৮ বছর ধরে এই এলাকায় কেনাকাটা করি। কিন্তু একবারের জন্যও টয়লেট ব্যবহার করিনি। টয়লেট ক্লিন থাকবে না ভেবেই ব্যবহার করা হয়নি। এ জন্য অবশ্য বাইরে এলে পানি, খাবার কম খেতে হয়।’

 ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের বাসিন্দা সেলিনা হোসাইন এভাবেই গণশৌচাগার নিয়ে নিজের ধারণার কথা বলেন। তাঁর সঙ্গে গতকাল শুক্রবার বিকেলে মিরপুর রোডের নূর ম্যানশন মার্কেটে কথা হয়। তিনি সেখানে মেয়ের বিয়ের গয়না কিনতে এসেছিলেন।

আবার গাউছিয়া মার্কেটের নিচতলায় কেনাকাটা সেরে দোকানির কাছে শৌচাগার কোথায় আছে, জানতে চান চল্লিশোর্ধ্ব নাসিমা বেগম। তিনতলায় ও ছয়তলায় মার্কেটের শৌচাগার আছে জেনে ডেমরার এই বাসিন্দা তিনতলায় আসেন। কিন্তু নোংরা শৌচাগার দেখে ব্যবহার না করে ফিরে যান।

পেশায় ব্যবসায়ী নাসিমা বেগম বলেন, ‘কেনাকাটা করতে বাসা থেকে বের হয়েছি দুপুর ১২টায়। ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। অথচ শৌচাগার ব্যবহার করার ব্যবস্থা নেই।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাছাকাছি বেশ কিছু বিপণিবিতান রয়েছে। নিউমার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, চাঁদনী চক, নূর ম্যানশন মার্কেট, চিশতিয়া মার্কেট, নিউ চিশতিয়া মার্কেট, নীলক্ষেত, হকার্সসহ এর মধ্যে অন্যতম। এসব বিপণিবিতানে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ কেনাকাটা করতে আসে। ছুটির দিনে ভিড় হয় অন্য দিনের চেয়ে তুলনামূলক বেশি। নারীরাই মূল ক্রেতা।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, এই এলাকায় কোনো গণশৌচাগার নেই। আবার এই করপোরেশনের অধীনে ‘নতুন পাবলিক টয়লেট ও বিদ্যমান পাবলিক টয়লেট উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্পের আওতায় ৪৫টি আধুনিক শৌচাগার নির্মাণ এবং ১৭টি পুরোনো শৌচাগার সংস্কার করা হবে। এই তালিকাতেও এই এলাকায় কোনো শৌচাগার তৈরি হবে বলে তথ্য পাওয়া যায়নি।

গতকাল শুক্রবার কমপক্ষে চারটি বিপণিবিতান ঘুরে দেখা যায়, বিপণিবিতানগুলোতে শৌচাগারের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। নারীরা মূল ক্রেতা হলেও বেশির ভাগ শৌচাগার বরাদ্দ পুরুষের জন্য। মূলত ব্যবসায়ী, দোকানের কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মীদের বিবেচনায় নিয়ে শৌচাগার বরাদ্দ দেওয়া হয়। আবার সেসব শৌচাগারের অবস্থাও ভালো নয়। নোংরা, দুর্গন্ধযুক্ত, ভেজা। কোনো কোনো নারীর জন্য নির্ধারিত শৌচাগার তালাবদ্ধ। তবে কোনো কোনো দোকান মালিক সমিতি আধুনিক শৌচাগার তৈরিতে নজর দিয়েছে। আর প্রতিবন্ধীদের জন্য শৌচাগারে কোনো বিশেষ ব্যবস্থাই নেই।

গাউছিয়া মার্কেটটি ছয়তলা। দোকানের সংখ্যা কম-বেশি তিন শ। বিপণিবিতানের তিনতলা ও ছয়তলায় কেবল শৌচাগার আছে। দুইতলায় শৌচাগারের সংখ্যা ১২। সেখানে চারটি নারীদের জন্য বরাদ্দ। সরেজমিন দেখা যায়, সিঁড়ি ভেঙে ওঠার ভয়ে অনেক নারীই সেখানে যান না। কারণ, শৌচাগারগুলো একই সারিতে তৈরি করা। দরজায় কেবল ‘মহিলা’ লেখা কাগজ লাগানো হয়েছে। এ কারণে  অনেক নারী সংকোচে ব্যবহার করেন না। এসব শৌচাগার অপরিচ্ছন্ন। মেঝে পানিতে ভেজা, কাদা হয়ে আছে।

তবে নূর ম্যানশন মার্কেটের শৌচাগারে নারী ও পুরুষের পৃথক ব্যবস্থা আছে। শৌচাগারও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। টিস্যু, সাবানও রয়েছে।

পর্যাপ্ত গণশৌচাগার তৈরিতে সিটি করপোরেশন ও রাজউক নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্থপতি ও নগর–পরিকল্পনাবিদ মোবাশ্বের হোসেন। তিনি বলেন, যেকোনো জনসমাগম স্থলে গণশৌচাগারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। যানজটের কারণে শৌচাগারের প্রয়োজনীতা আরও বেড়ে গেছে। শৌচাগার হতে আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত। আর বিপণিবিতান তৈরির সময়ই শৌচাগারের জন্য জায়গা বরাদ্দ রাখতে হবে।

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন