কমলাপুর স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছাড়ার কথা। সেটি ১ ঘণ্টা দেরিতে স্টেশন ছেড়ে যায়। রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস সকাল সাতটায় ছাড়ার কথা থাকলে তা দেড়ঘণ্টা দেরি করে সকাল সাড়ে সাতটায় স্টেশন ছাড়ে। সুন্দরবন এক্সপ্রেস সকাল সোয়া আটটায় ছাড়ার কথা থাকলেও তা সাড়ে নয়টার দিকে স্টেশন ছাড়ে।

এ ছাড়া দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপ্রেস ২৫ মিনিট, রংপুর এক্সপ্রেস ৩০ মিনিট দেরিতে স্টেশন ছাড়ে।

তারাকান্দিগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস বেলা ১১টায় স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কথা। এ প্রতিবেদন লেখার সময় দুপুর ১২টা পর্যন্ত অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস স্টেশন ছেড়ে যায়নি।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. মাসুদ সারওয়ার বলেন, ‘স্টেশনে ট্রেন বিলম্বে আসায় ট্রেন ছাড়তে দেরি হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেন ছাড়ার সব প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।’

default-image

মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ারেরর দাবি, এখন পর্যন্ত সবগুলো ট্রেনই শিডিউল অনুযায়ী ছেড়েছে। শুধু রংপুর এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস—এই তিনটি ট্রেন কিছুটা দেরিতে ছেড়েছে। এটাকে শিডিউল বিপর্যয় বলে না। এটাকে অপারেশনাল বিলম্ব ছিল। সামনের দিনগুলোতে এগুলোও নির্ধারিত সময়ে ছাড়বে বলে তাঁর আশা।

কমলাপুর রেলস্টেশন ব্যবস্থাপক জানান, গতকাল রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলে একটি ইঞ্জিন বিকলের ঘটনা ঘটে। সে কারণে ট্রেন ঢাকায় আসতে দেরি হয়েছে। এখান থেকে ছাড়তেও দেরি হয়েছে। যেসব ট্রেন এক ঘণ্টা দেরি করছে, তা স্বাভাবিক। এটাকে শিডিউল বিপর্যয় বলা চলে না।

মাসুদ সারওয়ার বলেন, একটা সময় ছিল যখন সকালের ট্রেন বিকেলে, বিকেলের ট্রেন রাত ১২টায় বা পরের দিন ছেড়েছে। এখন সে অবস্থা নেই। মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ করাই এখন লক্ষ্য। সবাই আনন্দ করার জন্যই বাড়ি যাচ্ছে, এতে যেন কোনো বিঘ্নতা না ঘটে। এসব বিবেচনায় ট্রেনগুলো একটু সময় নিয়ে চালানো হয়।

মাসুদ সারওয়ার আরও বলেন, ‘আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা না ঘটলে বা দুঘটনা না হলে আমরা ঈদযাত্রার বাকি দিনগুলোয় ঠিক সময়েই ট্রেন ছাড়তে পারব।’

default-image

ঈদে ট্রেন দুর্ঘটনার বিষয়ে এই স্টেশন ব্যবস্থাপক বলেন, অনেকেই ঈদযাত্রায় ট্রেনে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। প্রতিটি স্টেশনে বলা আছে, যেন যাত্রীরা নিরাপদে নামতে পারে এবং কেউ যেন ট্রেনের ছাদে উঠতে না পারে। কয়েক মিনিট বিলম্ব হলেও যাত্রীরা যেন নিরাপদে ওঠানামা করতে পারে—সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

স্টেশনে স্বাস্থ্যবিধি মানা ও মাস্ক পরা বিষয়ে মাসুদ সারওয়ার বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেছে। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে মাস্ক পরার বিষয়ে যাত্রীদের বলা হচ্ছে। যাত্রীদের কতটা সচেতন, তাঁরা কতটা স্বাস্থ্যবিধি মানছে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন