default-image

তিন দশক আগে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে সগিরা মোর্শেদ সালাম হত্যার ঘটনায় করা মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি ফের পিছিয়েছে। ২৬ নভেম্বর মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ ঠিক করেছেন আদালত।

আজ সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এই আদেশ দেন। আদালতের সরকারি কৌঁসুলি তাপস কুমার পাল প্রথম আলোকে এই তথ্য জানান।

তাপস কুমার পাল বলেন, ‘আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। আসামিপক্ষের সময় আবেদন মঞ্জুর করে আদালত অভিযোগ গঠনের শুনানির নতুন তারিখ ঠিক করেছেন।’
তাপস কুমার পাল জানান, এ নিয়ে এই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি তিনবার পেছাল।

বিজ্ঞাপন

গত ২১ জানুয়ারি এই হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আমলে নেন আদালত।

মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামিকে আজ কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
চার আসামি হলেন সগিরার ভাশুর চিকিৎসক হাসান আলী চৌধুরী (৭০), তাঁর স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা শাহিন (৬৪), শাহিনের ভাই আনাছ মাহমুদ রেজওয়ান (৫৯) এবং মারুফ রেজা (৫৯)।

গত ১৬ জানুয়ারি সগিরা মোর্শেদ সালাম হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। পিবিআই জানায়, গত বছরের ১৭ আগস্ট তারা মামলাটি তদন্ত শুরু করে।

হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তকাজ শুরুর পর চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিরা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। সগিরা মোর্শেদকে মূলত পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আসামিরা। পরিকল্পনামাফিক তা বাস্তবায়নের জন্য ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়োগ দেওয়া হয়।

সগিরা মোর্শেদ (৩৪) বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ছিলেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই সগিরা মোর্শেদ ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে মেয়েকে আনতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তের কবলে পড়েন। একপর্যায়ে দৌড় দিলে তাঁকে গুলি করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সগিরা মারা যান। সেদিনই রমনা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন তাঁর স্বামী সালাম চৌধুরী। প্রত্যক্ষদর্শী রিকশাচালক জড়িত দুজনের কথা বললেও মিন্টু ওরফে মন্টু নামের একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি মন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। নেওয়া হয় সাতজনের সাক্ষ্য। বাদীপক্ষের সাক্ষ্যে আসামি মন্টু ও মারুফ রেজার নাম আসে। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯১ সালের ২৩ মে বিচারিক আদালত অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে মারুফ রেজা হাইকোর্টে আবেদন করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯১ সালের ২ জুলাই হাইকোর্ট রুল দিয়ে অধিকতর তদন্তের আদেশ স্থগিত করেন। পরের বছরের ২৭ আগস্ট অপর এক আদেশে হাইকোর্ট ওই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ান। এতে থমকে যায় মামলার কার্যক্রম।

বিষয়টি নজরে এলে ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য উদ্যোগ নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি নিয়ে গত বছরের ২৬ জুন হাইকোর্ট মামলার অধিকতর তদন্ত আদেশে এর আগে দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন। একই সঙ্গে ৬০ দিনের মধ্যে ওই মামলার অধিকতর তদন্ত শেষ করতে পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0