বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রহমানুল্লাহ বলেন, ‘ছেলের পা ভেঙে গেছে। ছেলেটাকে কিছুটা স্বস্তিতে গ্রামের বাড়ি নিয়ে যেতে লঞ্চঘাটে এসেছিলাম। এসে দেখি ঘাটে কোনো লঞ্চ নেই। পরে জানলাম, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে ভাড়া বাড়াতে তারা (মালিকেরা) লঞ্চ সরিয়ে নিয়েছে। অপেক্ষা করতে করতে সন্ধ্যা গড়িয়ে গেল। তবু তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা গেল না। আবার অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে মিরপুরে যাওয়া আরও কষ্টের।’

গণপরিবহনে ধর্মঘট চলার দ্বিতীয় দিনে আজ শনিবার বাস না চললেও দুপুর পর্যন্ত নৌযানগুলো চলছিল। কিন্তু দুপুরে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভাড়া বাড়ানোর দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে লঞ্চ চালাবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন সাধারণ লঞ্চমালিকেরা। এতে সদরঘাটে এসে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা ভোগান্তি ও বিড়ম্বনায় পড়েন।

সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবহন ধর্মঘটের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সদরঘাটে আসেন যাত্রীরা। বেলা দুইটা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে লঞ্চ যেতে দেখা যায়। তবে বেলা ৩টার পরপর টার্মিনালের পন্টুন থেকে সব লঞ্চ ডকইয়ার্ডে সরিয়ে রাখা হয়। লঞ্চ না পেয়ে পরিবারসহ আবার বাসায় ফিরতে দেখা যায় যাত্রীদের। অনেকেই লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় রাত্রি যাপন করার সিদ্ধান্ত নেন।

পরে বিআইডব্লিটিএ কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে লঞ্চমালিকদের ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে লঞ্চের চলাচল বন্ধ থাকার কথা জানিয়ে যাত্রীদের বাড়ি চলে যাওয়ার অনুরোধ করে।

লঞ্চ টার্মিনালে আসা যাত্রী হোসেন মিয়া বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে বাসে করে উত্তরা থেকে সদরঘাট আসতে ৪৫-৫০ টাকা খরচ হয়। এখন বাস বন্ধ থাকায় ৫৫০ টাকা খরচ করে সদরঘাটে আসতে হয়েছে। এসে দেখি লঞ্চ বন্ধ। স্বল্প আয়ের লোকদের ভোগান্তি দেখার কেউ নেই।’

এই বিষয়ে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল কর্তৃপক্ষের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন