বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জামসেদ আনোয়ার বলেন, যে উন্নয়নের কথা বলা হয়, তার সঙ্গে দেশের বাস্তবতা কি সামঞ্জস্যপূর্ণ? প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হচ্ছে। দেশের গ্রামগঞ্জে যাত্রা-কবিগান বন্ধ করা হয়েছে, বাউলদেরও নিপীড়ন করা হচ্ছে। অথচ ওয়াজ মাহফিলের নামে যে বিষোদগার হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে সংস্কৃতিবান্ধব সরকারের ভূমিকা কী? সংবিধানের চার মূলনীতির একটিও এখন অবশিষ্ট নেই। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ের ক্ষমতাসীনদের সবাই মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে পদদলিত করেছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উদীচীর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি বদিউর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতির দেশে আজ সাম্প্রদায়িক হানাহানি এবং সাজানো নাটক করে সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপতৎপরতা বিরাজ করছে। বাংলা মায়ের বদন আজ মলিন। কিন্তু আমরা কেবল নয়নজলে ভাসব না। আমরা প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করব। মুক্তিযুদ্ধের সুখী-সুন্দর-সমৃদ্ধিশালী ও অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’

উদীচীর কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক সংগীতা ইমাম অভিযোগ করে বলেন, ‘সমঝোতার রাজনীতি করতে করতে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ হেফাজতে ইসলামের প্রেসক্রিপশনে পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তন করেছে। আজও আমরা রাষ্ট্রধর্ম বাতিল করতে পারিনি। অর্থাৎ শর্ষের মধ্যেই ভূত আছে। বর্তমান সরকার ও প্রশাসন দেশে সাংস্কৃতিক আন্দোলন চায় না। কিন্তু এটি ছাড়া যে রাজনৈতিক মুক্তি আসে না, তার প্রমাণ একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ। আমরা সবার সমান অধিকারের দেশ চাই। রাষ্ট্র হবে সবার। উদীচী অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার আন্দোলন চালিয়ে যাবে। ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আমরা দেশ থেকে নির্মূল করব।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উদীচীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও সাবেক সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ ইদু, বর্তমান কমিটির সহসভাপতি প্রবীর সরদার, সহসাধারণ সম্পাদক ইকবালুল হক খান, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আরিফ নূর প্রমুখ বক্তব্য দেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন