টমেটোর দাম মানভেদে কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। বাজারে এখন টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। চার থেকে পাঁচ দিন আগে শসার কেজি ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, এখন সেটা ৬০-৮০ টাকা। বেগুন মানভেদে ১০ থেকে ১৫ টাকা দাম বেড়ে কেজিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে কয়েক দিন ধরে আলুর দামও কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে এখন ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ৬০ টাকা থেকে হয়েছে ৮০ টাকা।

তবে রাজধানীর অন্য সব বাজার থেকে কারওয়ান বাজারে সবজির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে। পাল্লায় (পাঁচ কেজি) নিলে সেটা আরও কিছুটা কমে পান ক্রেতারা।

বাজারে পন্য সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি নেই বলে দাবি করে বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইমরান মাস্টার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সবজির বাজার এখনো অস্বাভাবিক অবস্থা ধারণ করেনি। আর সাধারণত বছরের এই সময়ে প্রাকৃতিক কারণেই সবজি কিছুটা নষ্ট হয়। সুতরাং, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষক, ব্যবসায়ী ও ক্রেতার সবার একধরনের প্রস্তুতি থাকে।’

এদিকে টানা বৃষ্টিতে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। গতকাল কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। মগবাজার, হাতিরপুল ও কাঁঠালবাগান বাজারে ১৬০ টাকা থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বেড়েছে ডিমের দামও।

default-image

খুচরা বাজারে ডিমের হাম ৪০ টাকা হালি থেকে গতকাল বিক্রি হয়েছে ৪২ থেকে ৪৩ টাকা। বাজারভেদে গরুর ও খাসির মাংসের দাম কমেছে। কারওয়ান বাজারে গরু ও খাসির মাংসের দাম চাওয়া হয় যথাক্রমে ৬৫০ ও ৯০০ টাকা। তবে হাতিরপুল বাজারে গরু ও খাসির মাংস ৭০০ ও হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। তবে বাজারে মাছের দাম স্থিতিশীল। সরবরাহও ভালো থাকায় দামও অনেকটা নাগালের মধ্যেই।

‘সিলেট ও সুনামগঞ্জ এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়।
ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি

সিলেট-সুনামগঞ্জে খাদ্যপণ্যের সংকট

এদিকে ভয়াবহ বন্যার কারণে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সঙ্গে সারা দেশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সেখানে সবজিসহ নিত্যপণ্যের জোগানে বেশ সংকট দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে গতকাল সিলেট শহরে কাঁচামাল ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের কয়েকটি ট্রাক ঢুকলেও বাণিজ্যিকভাবে সুনামগঞ্জে এখনো কোনো পণ্যের চালান ঢুকতে পারেনি।

ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করার মতো পরিস্থিতি সেখানে তৈরি হয়নি। এই জেলার অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখনো পানির নিচে। তবে সিলেট শহরের কিছু দোকান খোলার প্রস্তুতি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা।

মানবিক এই সংকট উত্তরণ নিয়ে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিলেট ও সুনামগঞ্জ এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়।

সুতরাং, বড় কোনো ঝুঁকি নেই। খাদ্যদ্রব্যের মতো মালামালের সংকট যাতে না হয়, এ জন্য পাইকারি-খুচরা সব ব্যবসায়ীকে উদ্যোগ নিতে হবে। বাইরের ব্যবসায়ী যাঁরা এই দুই জেলায় মালামালের জোগান দেন, তাঁদের এখানকার ব্যবসায়ীদের ওপর আস্থা রাখতে হবে। তাহলে মানবিক এই সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন