ব্রিফিংয়ে উপস্থিত একাধিক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তখন বিফ্রিং প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। এমন সময় এক ব্যক্তি ব্যবস্থাপকের বাঁ পাশে এসে দাঁড়ান। ব্রিফিংয়ের একটি কাগজের ছবি তুলতে সাংবাদিকেরা ব্যবস্থাপকের টেবিল ঘিরে দাঁড়ান। এ সময় ব্যবস্থাপক দাঁড়িয়ে ওই কাগজের ছবি তোলায় সহযোগিতা করছিলেন। তখন ওই ব্যক্তি ব্যবস্থাপকের ডান পাশে এসে টেবিলে রাখা মানিব্যাগ ও দুটি মুঠোফোন নিয়ে কক্ষ ত্যাগ করেন। কিছুক্ষণ বাদে ব্যবস্থাপক মুঠোফোন ও মানিব্যাগ খুঁজে পাননি।

ওই কক্ষে থাকা একাধিক ক্যামেরা ও মুঠোফোনের ভিডিও পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্টেশন ব্যবস্থাপক চেয়ার থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তি দুটি মুঠোফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। পরে তাঁকে স্টেশন চত্বরে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কমলাপুর স্টেশন ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, ‘এখানে অর্ধশতাধিক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। দুদিক থেকেই প্রশ্ন করা হচ্ছিল।

সাংবাদিকেরা আমার কাছে থাকা একটি কাগজের ছবি তুলছিলেন। এ সময় যে চুরি করেছে, ওই ব্যক্তি আমার পেছন দিয়ে এসে মুঠোফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে দ্রুত রুম ত্যাগ করে। ঘটনাটি আমরা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখেছি।’

স্টেশন ব্যবস্থাপক প্রথম আলোকে বলেন, প্রথমে ওই ব্যক্তির হাতে ওয়ালেট ছিল। এরপর মূল গেট থেকে বের হওয়ার পর তিনি ওয়ালেট পাঞ্জাবির পকেটে ঢোকান। এরপর পুলিশ কন্ট্রোল বক্সের সামনে এগিয়ে এসে আবার ওয়ালেট পকেট থেকে বের করেন।

কী কী হারিয়েছে, তা জানতে চাইলে স্টেশন ব্যবস্থাপক বলেন, ‘মানিব্যাগে ৪৫ হাজারের বেশি টাকা ছিল। দুটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ছিল। এর মধ্যে একটি সরকারি ফোন ছিল। এ ঘটনায় একটি জিডি করা হয়েছে। এতগুলো গণমাধ্যমকর্মীর সামনে দিয়ে ওই ব্যক্তি দূরদর্শিতার সঙ্গে কাজটা করে গেল। অবাক হলাম, সে কত বড় দুর্ধর্ষ চোর!’

কমলাপুর স্টেশনে চোরদের আনাগোনা কি তাহলে সব সময় থাকে—এমন প্রশ্নের জবাবে স্টেশন ব্যবস্থাপক প্রথম আলোকে বলেন, এখন বোঝা যাচ্ছে, যেহেতু ব্যবস্থাপকের কক্ষ থেকে এতগুলো লোকের সামনে মুঠোয়োন ও ওয়ালেট চুরি হয়ে যাচ্ছে, তার মানে আরও এক্সপার্ট চোর থাকতে পারে। এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন