বিজ্ঞাপন

শিক্ষক সমিতির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘১৭ মে তারিখ একটি জাতীয় দৈনিকের একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হেনস্তা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং সচিবালয়ের মতো জায়গায় এ ধরনের ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুসারে ওই সাংবাদিক স্বাস্থ্যসচিবের একান্ত সচিবের কক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় গোপন নথি সরিয়েছেন এবং অনুমতি না নিয়ে নথির ছবি তুলেছেন। কিন্তু সচিবের একান্ত সচিবের কক্ষ, যেখানে সচিব মহোদয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎপ্রার্থীরা অপেক্ষমাণ থাকেন, সেখানে কোনো রাষ্ট্রীয় স্পর্শকাতর গোপন নথি অন্যের দৃশ্যমানতায় রাখা কর্তব্যে অবহেলার শামিল। এ ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন জেগেছে যে ব্যক্তির অনিয়মের গোপন তথ্য রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি না? সম্প্রতি ওই সাংবাদিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবিষয়ক বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে রাষ্ট্রের স্বার্থকে সমুন্নত করলেও কারও কারও বিরাগভাজন হয়েছেন।

বিবৃতিতে শিক্ষক সমিতি বলেছে, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান অতিমারি পরিস্থিতি মোকাবিলায় যে দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন, তা সরকারের কতিপয় কর্মকর্তার দুর্নীতি ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে ম্লান হতে দেওয়া যাবে না।

কোনো ব্যক্তির অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ভার রাষ্ট্র ও সরকার নিতে পারে না। সমাজের যেকোনো অসংগতি তুলে ধরাই গণমাধ্যমের কাজ আর পেশাগত দায়িত্ব পালনে ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনানুসারে সুরাহা হওয়া বাঞ্ছনীয়। কিন্তু উল্লিখিত সাংবাদিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ও অসুস্থ হওয়ার পরও সচিবালয়ের মতো রাষ্ট্রের শীর্ষ প্রশাসনিক দপ্তরে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রেখে মানসিকভাবে নির্যাতনের ঘটনা চরম অপেশাদারি, কর্তৃত্ববাদী ও সন্ত্রাসী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। এ ঘটনা সাধারণ মানুষের কাছে এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের বিদ্যমান স্বাধীনতা সম্পর্কে একটি ভুল বার্তা দিচ্ছে। আমরা আশা করব, সরকার তার গৃহীত পদক্ষেপের মাধ্যমে এটিকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে প্রমাণ করবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সমাজের সুষম উন্নয়নের স্বার্থে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পেশার মানুষের মধ্যে সহযোগিতা ও সহমর্মিতার সম্পর্ক বজায় থাকা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু আমলাতন্ত্রের কতিপয় ব্যক্তির অদক্ষতা, অপেশাদারি ও কর্তৃত্ববাদী আচরণের কারণে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত অনেকের মধ্যে নানা সময়ে ক্ষোভ ও হতাশা লক্ষ করা গেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি সরকারকে জনবিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া ও অভিযুক্ত সাংবাদিকের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে মুক্ত-গণমাধ্যমের পরিপন্থী সব প্রতিবন্ধকতা অপসারণের আহ্বান জানাচ্ছে।

প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে গত সোমবার সচিবালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। পরে রাতে তাঁকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। মধ্যরাতে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রোজিনা ইসলামকে আদালতে নেওয়া হয়। আদালত তাঁর বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আজ রোজিনার মামলাটি পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে।

রোজিনা ইসলাম সাম্প্রতিককালে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে বেশ কিছু প্রতিবেদন করেছেন। এ কারণে তিনি কারও কারও আক্রোশের শিকার হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁকে হেনস্তা ও হয়রানির প্রতিবাদে সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভ, প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো অব্যাহত রেখেছেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংগঠন বিবৃতি দিয়ে তাঁর মুক্তি দাবি করেছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন