বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুরান ঢাকার কয়েকটি অলিগলি ঘুরে বিভিন্ন দোকানে ঘুড়ি-নাটাই-সুতা বিক্রি হতে দেখা গেছে।

দোকানগুলোতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা রং-আকার-আকৃতির ঘুড়ি। সঙ্গে আছে নাটাই আর মাঞ্জা দেওয়া সুতা। পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে চলছে বেচাবিক্রি।

বাংলা পৌষ মাসের শেষ দিন পুরান ঢাকায় উদ্‌যাপন করা হয় ‘সাকরাইন উৎসব’, যা ‘ঘুড়ি উৎসব’ নামেও পরিচিত। অল্প পুঁজিতে অধিক লাভ থাকায় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে অনেকে শুরু করেন ঘুড়ি-নাটাই-সুতা বিক্রির মৌসুমি ব্যবসা।

default-image

উৎসবটি সম্পর্কে স্থানীয় কয়েকজন অধিবাসী বলেন, ৩০ পৌষ সারা দিন চলে ঘুড়ি ওড়ানো আর আলোর খেলা। ভোরের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পুরান ঢাকার বিভিন্ন বাড়ির ছাদে ঘুড়ি ওড়ানো শুরু করে শিশু থেকে তরুণ-যুবকেরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে বাড়তে থাকে ঘুড়ির সংখ্যা। বিকেল গড়াতেই বাড়ির ছাদে ছাদে বাজতে থাকে গান। সন্ধ্যার পর শুরু হয় আলোর খেলা। আতশবাজি ও লাইটিং চলে মধ্যরাত পর্যন্ত।

রাজধানীর শাঁখারীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, নারিন্দা, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া, সূত্রাপুর, ধূপখোলা, দয়াগঞ্জ, লালবাগ, বংশাল এলাকায় ঘুরে ঘুড়ি-নাটাই-সুতা বেচাবিক্রি হতে দেখা গেছে।
ধূপখোলার আবু সাঈদ নামের এক মৌসুমি ব্যবসায়ী বলেন, যখন যে উপলক্ষ আসে, তখন সেই ব্যবসা শুরু করেন তিনি। এতে ভালো লাভ হয়।

আবু সাঈদ বলেন, সাকরাইন উৎসবের দিন যত এগিয়ে আসে, বিক্রি তত বাড়বে। তিনি এবার যেসব মালামাল সংগ্রহ করেছেন, তা উৎসবের আগেই বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা তাঁর।

default-image

ঘুড়ি সবচেয়ে বেশি বেচাবিক্রি চলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন শাঁখারীবাজার এলাকায়। শ্রাবণসন্ধ্যা শঙ্খ ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী পরিতোষ মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, করোনা মহামারির আগে বেচাবিক্রি অনেক বেশি হতো। সে তুলনায় মহামারিকালে বিক্রি কিছুটা কম। তবে শেষ দিকে বিক্রি বাড়ে।

পরিতোষ মণ্ডল বলেন, আগে শাঁখারীবাজারেই অনেক কারিগর ঘুড়ি বানাতেন। কিন্তু এখন এখানকার অনেকেই ঘুড়ি বানানোর পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ থেকে ঘুড়ি সংগ্রহ করে নিয়ে আসতে হয়। সেখানে মাসখানেক আগে ঘুড়ি বানানো শুরু করেন কারিগরেরা। সুতা আসে ভারত-চীন থেকে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন