সম্প্রতি শান্তিবাগে সামিয়াদের শান্তিবাগের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, একটি সেলাই মেশিনে কাজ করছিলেন মা হোসনে আরা। পাশের ঘরে ছোট ভাই সোহাইব জামাল ঘুমাচ্ছিল, আর বাবা কর্মস্থলে। হোসনে আরা জানান, ঈদে পরিচিতজনদের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে পোশাক সেলাই করে দিলে, বেশ কিছু টাকা হাতে আসত। আগে পায়ে চালিত মেশিন ছিল। সামিয়া দুই মাস একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করে পাওয়া টাকা দিয়ে তাঁকে নতুন মেশিন কিনে দেন। এবার নতুন কোনো অর্ডার নেননি হোসনে আরা। সামিয়ার মৃত্যুর আগে কিছু অর্ডার নেওয়া ছিল, সেগুলোর কাজই করছিলেন।

সামিয়ার বন্ধুরা যেমন বলেছিলেন, তিনি ভীষণ প্রাণচঞ্চল মেয়ে ছিলেন, তা–ই বললেন সামিয়ার মা—‘মেয়েটা আমার সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলত। রাগ ছিল না। কুকুর–বিড়ালের প্রতি অনেক মায়া ছিল। রাস্তায় বিড়ালের বাচ্চা পড়ে থাকতে দেখলেই বাসায় নিয়ে আসত।’

সামিয়ার বিড়ালপ্রীতির কিছু ছবি দেখালেন তাঁর মা। সামিয়ার প্রিয় বিড়াল পিকু সদ্য পাঁচটি বাচ্চা জন্ম দিয়েছে। সামিয়া যে খাটে ঘুমাতেন, তার নিচে একটি বাক্সে বিড়ালগুলো সংসার পেতেছে। পিকুর সংসার আগলে রেখেছেন সামিয়ার মা।
সামিয়ার মডেলিং ও অভিনয়ের শখ ছিল। কিন্তু পরিবার বারণ করত। সামিয়ার একটি নোটবুক বের করে দেখালেন তাঁর মা। তাতে টম অ্যান্ড জেরি, ডোরেমন, পিকাচুসহ নানান কার্টুন চরিত্র আঁকা।

এগারো বছর আগে সামিয়ারা ঢাকায় আসেন। পড়াশোনায় তিনি বেশ ভালোই ছিলেন। ২০১৬ সালে এসএসএসি পাস করে ভালো কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলেও আর্থিক সংকটে ভর্তি করতে পারেনি তাঁর পরিবার। এ নিয়ে মায়ের আফসোস, ‘মেয়েটাকে যদি একটু সাপোর্ট দিতে পারতাম, মেয়ে আমার এখন হয়তো অন্য জায়গায় থাকত।’ বাবা জামাল উদ্দিন স্বল্প বেতনের চাকরিতে বাসা ভাড়া, সংসারের খরচ, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ কুলিয়ে উঠতে পারতেন না। একসময় নিজেই চাকরি খুঁজতে শুরু করেন সামিয়া।

ঈদের চাঁদ উঠলেই আশপাশের শিশুরা চলে যেত সামিয়াদের বাসায়। সামিয়া মাঝরাত পর্যন্ত সবার হাতে মেহেদি লাগিয়ে দিত। এবার আর কেউ সামিয়াদের বাসায় আসবে না।

বছর ঘুরে ঈদ আসবে, কিন্তু হোসনে আরার ঘরে ঈদের আনন্দ আর ফিরবে না। কেমন আছেন জানতেই কান্নাজড়িত গলায় সামিয়ার মায়ের উত্তর, ‘দিন তো চলে যায়, কিন্তু কীভাবে কাটে আমি জানি না।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন