বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় ২৮ অক্টোবর একটি বিবৃতি দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, দেশে সম্প্রতি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সময় কেউ ধর্ষিত হননি ও একটি মন্দিরেও অগ্নিসংযোগ কিংবা ধ্বংস করা হয়নি। ধর্মীয় সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ছয়জন মারা গেছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন মুসলমান, আর তাঁরা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। দুজন হিন্দু মারা যান, তাঁদের মধ্যে একজনের সাধারণ মৃত্যু হয়েছে। অন্যজন ডুবে মারা গেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই দেশের বিভিন্ন সংখ্যালঘু ও নাগরিক সংগঠন এর প্রতিবাদে সোচ্চার হয়। আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেই বক্তব্যের প্রতিবাদেই ধিক্কার মিছিল আয়োজন করে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

মিছিল–পূর্ব সমাবেশে এক ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিকে কখনোই বিবেচনায় না নিয়ে ‘মিথ্যাচারের’ আশ্রয় নেওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘অসত্য ও ধৃষ্টতাপূর্ণ’ বক্তব্য বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এর দায় বিবেচনায় নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানানো হচ্ছে।

সমাবেশে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার রায়। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলা চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ও পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাম্প্রতিক ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য তার সম্পূর্ণ বিপরীত, যা বিশ্বে অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

সমাবেশে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি নিমচন্দ্র ভৌমিক বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্বহীন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি মিথ্যা দিয়ে সত্যকে ঢাকার চেষ্টা করেছেন। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করার দাবি জানান তিনি।

সমাবেশে ঐক্য পরিষদের নেতা সুব্রত চৌধুরী বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলেছেন, তা নীতিনির্ধারকদের ভাবনার বাইরের কিছু নয়।

সমাবেশ পরিচালনা করেন ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কিশোর মণ্ডল। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ধীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী সচিব পলাশ কান্তি দে, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক এম কে রায় প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল প্রেসক্লাব থেকে মৎস্য ভবন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাবেশে বক্তব্য দেন ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার দে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আরও সাম্প্রদায়িক হামলা হতে পারে। এ ব্যাপারে সংখ্যালঘুদের সজাগ থাকতে হবে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন