বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাইফ আলী জানালেন, ছয় সদস্যের সংসারে স্ত্রী ও চার মেয়ে। থাকেন রশিদবাগে তিন হাজার টাকা ভাড়ার একটি ঘরে। স্ত্রী স্থানীয় একটি কারখানায় কাজ করেন। আর তিনি চালান অটোরিকশা। সব মিলিয়ে মাসে আয় ১৫-২০ হাজার টাকা। তবে এ দিয়ে এখন আর সংসার ঠিকমতো চালাতে পারছেন না। তাই এক বেলা রিকশা চালানো বন্ধ রেখে টিসিবির পণ্য সংগ্রহ করতে এসেছেন। এর আগেও এসেছিলেন টিসিবির পণ্য সংগ্রহ করতে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল পাঁচটার সময় পণ্য দেওয়া শুরু হলে সাইফ আলী মেয়েকে নিয়ে কেনা পণ্য ব্যাগে গুছিয়ে বাড়ির দিকে যাত্রা শুরু করেন। তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও শেষমেশ পণ্য পেয়ে কিছুটা স্বস্তির আভাই দেখা গেল তাঁর চোখে–মুখে। বোঝা গেল তাঁর কথাতেও। যাওয়ার সময় বলে গেলেন, ‘একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্রাক নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়ালে, আমাদের জন্য সুবিধা।’

সাইফ আলীর মতো প্রায় শতাধিক মানুষ পণ্য পেতে অপেক্ষা করছিলেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তবে এসব মানুষের অভিযোগ শোনার যেমন কেউ ছিল না, তেমনি কোথায় অভিযোগ করবেন, সেটাও তাঁদের জানা নেই।

প্রথম আলোর এই প্রতিনিধির কাছে অনেকে অভিযোগ করলে পণ্য দিতে দেরি হওয়ার কারণ বিক্রয় প্রতিনিধিদের কাছে জানতে চাওয়া হয়। তখন এক বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, যে পেঁয়াজ সরবরাহ করা হয়, তাতে দেখা যায়, অনেক বস্তায় নষ্ট পেঁয়াজ থাকে। এতে অনেক সময় কেউ নষ্ট পেঁয়াজ পান, আবার কেউ ভালো পান। তাই দুর্ভোগ এড়াতে সব পেঁয়াজ মিশিয়ে প্যাকেট করতে কিছুটা দেরি হয়। আর সব পণ্য গুছিয়ে নিয়ে বিক্রি করতে তাঁদের সুবিধা হয়। এ কারণেই দেরি বলে দাবি তাঁদের।

আরেক বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, টিসিবির গুদাম থেকে পণ্য ট্রাকে লোড করে যানজটের কারণে আসতে দেরি হয়ে যায়। রায়েরবাগ এলাকায় ২৫০ মানুষকে পণ্য দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এর মধ্যে ৫০০ কেজি করে তেল, চিনি, ডাল, সাড়ে ৭০০ কেজি পেঁয়াজ, ২৫০ কেজি ছোলা ও ১০০ কেজি খেজুর বরাদ্দ। জনপ্রতি তেল, চিনি ও ডাল সর্বোচ্চ দুই কেজি এবং তিন কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়।

পণ্য দিতে দেরি হওয়ায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকেই টিসিবির বিক্রয় প্রতিনিধির কাজে সহযোগিতা করেন। এ সময় কথা হয় রনি ভূঁইয়া নামের একজনের সঙ্গে।

মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজে সমাজকর্ম বিভাগে তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। থাকেন রায়েরবাগে বড় বোনের বাসায়। বোন-ভগ্নিপতি, ভাগনে–ভাগনি মিলে পাঁচ সদস্যের পরিবার। রনি ভূঁইয়া বলেন, সুযোগ পেলে তিনিও এখান থেকে স্বল্পমূল্যে পণ্য কিনে নিয়ে যান।

ওএমএস ট্রাকসেলে চাল-আটাও কিনলেন অনেকে

রায়েরবাগের খানবাড়ি এলাকায় চার সন্তান ও স্বামী নিয়ে থাকেন রোকেয়া আক্তার। স্থানীয় বাজারে খোলা মশার কয়েল বিক্রি করেন তিনি। প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার কয়েল বিক্রি করলে ২০০–৩০০ টাকা লাভ হয়। প্রতিদিনের আনুষঙ্গিক খরচ থেকে টাকা বাঁচিয়ে দেড় হাজার টাকা নিয়ে এসেছিলেন টিসিবির পণ্য কিনতে।

শনিবার দুপুর থেকে রায়েরবাগ পদচারী–সেতু এলাকায় টিসিবির পণ্য কিনতে অপেক্ষা করছিলেন রোকেয়া। কিন্তু টিসিবির ট্রাক আসতে দেরি হওয়ায় নিজের সিরিয়াল অন্য একজনকে লেখার অনুরোধ জানিয়ে ওএমএসের চাল কিনতে চলে যান তিনি।

খাদ্য অধিদপ্তর পরিচালিত ওএমএস ট্রাকসেলে চাল-আটা বিক্রি হচ্ছিল পদচারী–সেতুর কাছেই। সেখানে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রত্যেকের কাছে পাঁচ কেজি করে চাল-আটা বিক্রি করা হচ্ছিল। প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা ও আটা ১৮ টাকা।

রোকেয়া ১০ কেজি চাল কিনতে কিনতেই আটা শেষ হয়ে যায়। তিনি বলেন, ছেলেরা কর্মক্ষম হওয়ার পরও কাজ করে না। অভাবের সংসার নিজেকেই চালাতে হয়। স্বামী মাঝেমধ্যে রিকশা চালাতে বের হন, না হলে উপার্জন বন্ধ। তাই সরকারি জিনিসপত্র কিনতে এসেছেন; যেন কিছু টাকা বেঁচে যায়।

ওএমএস ট্রাকসেলের বিক্রয় প্রতিনিধি তমিজউদ্দিন বলেন, বিক্রির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩৫০ কেজি চাল ও ৫০০ কেজি আটা। চাহিদা বেশি থাকায় আটা আগেই বিক্রি হয়ে যায়।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন