বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আল মঈন বলেন, গত বৃহস্পতিবার পান্থপথে সংবাদকর্মী আহসান কবীর খানকে চাপা দেওয়া গাড়ি মো. হানিফ (২৩) চালাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে সহকারী হিসেবে ছিল ১০ বছরের এক শিশু। পান্থপথ হয়ে গাবতলীতে ময়লা ফেলার কথা ছিল তাঁদের। প্রতিদিনের মতো ওই দিনও তিন থেকে চারবার এ পথে যাওয়ার কথা ছিল গাড়িটির। তৃতীয়বার ময়লা নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটে এবং তাঁরা ভয়ে পালিয়ে যান। মো. হানিফ প্রথমে গাবতলীতে যান, পরে সেখান থেকে চাঁদপুরে নানাবাড়িতে আত্মগোপন করেন।

মো. হানিফের হালকা গাড়ি চালানোর সনদ আছে। তিনি সিটি করপোরেশনের গাড়ি সারাইখানায় সহকারী হিসেবে সাত থেকে আট বছর কাজ করেছেন। পরে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদে কর্মরত ব্যক্তিদের সঙ্গে হানিফ সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। তাঁরাও সিটি করপোরেশনের গাড়ি হানিফের হাতে ছেড়ে দিতে শুরু করেন। ২০১৯ সালে তিনি হালকা যান চালানোর সনদ পান। প্রথমে ছোট ট্রাক চালাতেন, এরপর ময়লার ট্রাক হাতে পান।

জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাব জেনেছে, ময়লার গাড়ি চালানোর বিনিময়ে হানিফ কোনো টাকা পেতেন না। প্রতিদিন গাড়ির জন্য যে তেল বরাদ্দ থাকত, সেখান থেকে বেঁচে যাওয়া তেল বেচতেন হানিফ। এটাই ছিল অলিখিতভাবে তাঁর মজুরি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাদের সঙ্গে হানিফের সুসম্পর্ক ছিল, তা জানতে চাইলে র‌্যাব বলেছে, হানিফ কিছু নাম বলেছেন। তবে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। এ–সম্পর্কিত তথ্য তাঁরা করপোরেশনকে জানাবেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর পান্থপথে ময়লার গাড়ির চাপায় মারা যান সংবাদকর্মী আহসান কবীর খান। তিনি একজনের সঙ্গে শরিকি যাত্রায় মোটরসাইকেলে ছিলেন। পেছন থেকে ময়লার গাড়ির ধাক্কায় তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এরপর গাড়িটি তাঁর মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা চালককে আসামি করে তাঁর স্ত্রী নাদিরা পারভীন কলাবাগান থানায় মামলা করেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন