বিজ্ঞাপন

খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত উন্মুক্ত স্থানে ভবন নির্মাণ কার্যক্রমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কল্যাণপুর হাউজিং সমবায় সমিতি লিমিটেডের পক্ষে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম রোববার ওই রিটটি করেন। ‘দখলদার রয়ে গেল, সরে এল গৃহায়ণ’ শিরোনামে গত ৭ জুলাই প্রথম আলোয় প্রতিবেদন ছাপা হয়। রিটে প্রতিবেদনটি যুক্ত করা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।

আইনজীবী ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘১৯৮৩ সালে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি দেখে ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য আগ্রহী ব্যক্তিরা আবেদন করেন। সীমানাপ্রাচীর দিয়ে বেষ্টিত ১০ দশমিক ১৯ একর জায়গায় ১২টি ভবনে ২৪০টি ফ্ল্যাট তৈরি করে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। পর্যায়ক্রমে ১৯৮৪ সালে থেকে বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিদের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সমিতির সদস্য ২৪০ জন ফ্ল্যাট মালিক।

১৯৯৭ সালে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ওই সীমানার ওপর জরিপ করে। এতে সীমানার ভেতরে কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ, সমিতির অফিস, ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার মাঠ হিসেবে উন্মুক্ত জায়গা নির্ধারণ করা হয়। এসব সুবিধা বজায় রেখে সীমানার ভেতর আর কোনো ফ্ল্যাট তৈরি করা সম্ভব নয় বলে ওই জরিপে বলা হয়। কিন্তু চলতি বছরের ৩০ জুন হঠাৎ করে খেলার মাঠটি টিন দিয়ে ঘিরে একটি আবাসন কোম্পানি ভবন নির্মাণপ্রক্রিয়া শুরু করে, যা ১৯৯৭ সালে জরিপের সিদ্ধান্তের পরিপন্থী বলে রিটটি করা হয়। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার ফলে ওই সীমানার ভেতরে ভবন নির্মাণের কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।’

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর মিরপুরে নিজেদের একটি আবাসন প্রকল্পের বেদখল জমি উদ্ধার করতে না পেরে পরিকল্পনাই বদলে ফেলেছে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরেকটি পুরোনো আবাসন প্রকল্পের উন্মুক্ত জায়গায়। এই পরিকল্পনায় অবশ্য আপত্তি পুরোনো আবাসন প্রকল্পটির বাসিন্দাদের। তাঁরা বলছেন, যে জায়গায় ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার একাংশ শিশু-কিশোর ও তরুণেরা খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে। আরেকাংশ গাছগাছালিতে ভরা। ভবন নির্মাণ করতে হলে সেগুলো কাটতে হবে।

গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর ১৪ নম্বরের ভাষানটেক বস্তিসংলগ্ন ধামালকোট এলাকায় ‘গৃহসূচনা’ প্রকল্পের অধীনে আটটি ভবন করার কথা ছিল। কিন্তু যে পরিমাণ জমি তারা উদ্ধার করতে পেরেছে, সেখানে ছয়টি ভবন নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে। এই ভবনগুলোর নির্মাণকাজ চলছে ২০১৮ সাল থেকে। বাকি দুটি ভবন তারা কল্যাণপুর হাউজিং এস্টেটের ভেতরের উন্মুক্ত এলাকা হিসেবে নির্ধারিত জমিতে করতে চায়।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন