বিজ্ঞাপন

শাফিয়া প্রথম আলোকে বললেন, ‘গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে, তা শোনার পর থেকে কলিজার মধ্যে খোঁচা দিচ্ছে। মনে হচ্ছে, আমাদের বাঁচার অক্সিজেন কেড়ে নিচ্ছে।

সকালে মেয়েকে নিয়ে যখন উদ্যানে আসি, তখন মেয়েকে কাঠবিড়ালি দেখালাম। গাছ কেটে ফেললে ভবিষ্যতে তো কাঠবিড়ালিও দেখতে পাব না। করোনার এ সময়ে মেয়েকে বাইরে আনার ঝুঁকি আছে, কিন্তু মনে হলো বাঁচতেই তো দিচ্ছে না। ঘরে বসে থেকে তো লাভ নেই। আর পরবর্তী প্রজন্ম জানতে চাইতে পারে, “গাছ কাটার কথা শুনে তুমি কী করেছ?” তাই প্রতিবাদ করার জন্য ঘর থেকে বের হয়েছি। আমাদের অধিকারের কথা আমাদেরই বলতে হবে।’

default-image

সমাবেশ শেষে স্থপতি ইকবাল হাবিব, গ্রীন ভয়েসের প্রধান সমন্বয়ক আলমগীর কবির, গ্রীন সেভারর্সের সভাপতি আহসান রনিসহ অন্যরা কাগজে লেমিনেটিং করে ফিতা দিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ, বীর প্রতীকসহ খেতাবপ্রাপ্ত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম লিখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছে গাছে তা টাঙিয়ে দেওয়ার কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

গাছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম লাগানোর সময় স্থপতি ইকবাল হাবিব অন্যদের বলেন, ‘গাছটা একটু ধরেন, গাছ কেটে ফেললে তো আর ধরারও সুযোগ পাওয়া যাবে না।’ তিনি বলেন, বিখ্যাত, বিজ্ঞ ব্যক্তিরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতাস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের মহাপরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন। তাতে খাবারের দোকান, শৌচাগারসহ এ ধরনের কোনো স্থাপনা বানানোর কথা ছিল না। প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের নাম দিয়ে দুর্বৃত্তায়ন করে খাবারের দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করে এ উদ্যানের ঐতিহাসিক সত্যতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হচ্ছে। তিনি গাছ কাটার প্রতিবাদ চলমান রাখার ঘোষণা দেন।

default-image

আহসান রনি বলেন, গাছগুলোকে বাঁচানোর স্বার্থেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে গাছগুলোর নামকরণ করা হলো। গাছগুলো এই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করছে।
সমাবেশে গ্রীন ভয়েসের পক্ষ থেকে উদ্যানের সবুজ ধ্বংস করে রেস্টুরেন্ট নির্মাণ বন্ধ করা এবং গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

গ্রীন ভয়েসের সমাবেশে সেভ ফিউচার বাংলাদেশ নামের আরেকটি সংগঠনের প্রতিনিধিরাও একাত্মতা প্রকাশ করেন। এর বাইরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের উন্মুক্ত মঞ্চের প্রতিনিধিরাও নানাভাবে প্রতিবাদ জানানো অব্যাহত রেখেছেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন