default-image

পুরান ঢাকার ফরাশগঞ্জের স্কুলছাত্র আরিফ হোসেন ওরফে অনন্ত হত্যায় তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার গভীর রাত থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ওয়ারি, গেন্ডারিয়া ও রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের সবার বয়স ১৩ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।

ফরাশগঞ্জের লালকুঠি ঘাট এলাকায় গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিনিয়র গ্রুপের সদস্য আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে একটি দলের সঙ্গে জুনিয়র গ্রুপের আরেকটি দলের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে জুনিয়র গ্রুপের হাতে সিনিয়র গ্রুপের আরিফ, সাজু ও সোহেল আহত হয়। গুরুতর অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক আরিফকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। তার পেটে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। আহত সাজু ও সোহেল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিহত স্কুলছাত্র আরিফ হোসেন সপরিবারে মিল ব্যারাক কাজীটোলায় থাকত। সে স্থানীয় কে এল জুবিলি স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। দুই ভাইয়ের মধ্যে আরিফ ছোট। আরিফের বাবা শাহাদত হোসেন পুরান ঢাকার বাংলাবাজারের একটি দোকানের কর্মচারী।

বিজ্ঞাপন

সূত্রাপুর থানার পুলিশ জানায়, আরিফ হত্যায় তার বাবা বাদী হয়ে ছয় কিশোরকে আসামি করে সূত্রাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া তিন কিশোরকে আজ ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে পাঠানো হয়। আগামী ৪ এপ্রিল শিশু আদালতে রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে আদালত তাদের টঙ্গীর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মামুনুর রহমান আজ প্রথম আলোকে বলেন, স্কুলছাত্র আরিফ গেন্ডারিয়ার একটি কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কয়েক দিন আগে তারা ওয়ারী ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকার আরেকটি ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ এক সদস্যকে মারধর করে। কিন্তু শবে বরাতের রাতে ওয়ারী ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ জুনিয়র গ্রুপের সদস্যরা লালকুঠি ঘাটে সিগারেট খাচ্ছিল। এ সময় আরিফের নেতৃত্বে সিনিয়র গ্রুপের সদস্যরা জানতে চায়, কেন তাদের সামনে সিগারেট খাচ্ছে তারা। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ হয়। এতে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে মারা যায় আরিফ।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন