default-image

লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা তদারকিতে ঢাকায় অভিযান চালিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সকাল থেকেই গুলশান, ধানমন্ডি ও সায়েন্সল্যাব এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়।

ঢাকা জেলা প্রশাসন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় গুলশানের স্পা সেন্টারেও অভিযান হয়।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মো. মামুনুর রশিদ ঢাকার ধানমন্ডি ও সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কথা হচ্ছে মানুষ কাজ করবে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করবে। মানুষকে শতভাগ আইনকানুন মেনে চলতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।’ তিনি জানান, বাস ছাড়াও অন্য কোনো গাড়িতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা দেখা হচ্ছে।

সাইন্সল্যাব মোড়ে বেলা দেড়টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে আধা ঘণ্টায় তিনটি মামলা হয়েছে। তিনজনকে জরিমানা করা হয় আট হাজার টাকা।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মো. মামুনুর রশিদ বলেন, ‘সিএনজিতে বেশি লোক দেখলে তাদের বোঝাচ্ছি, জরিমানার আওতায় আনছি। সিএনজিতে কেউ হাসপাতালে যাচ্ছে, কেউ ব্লাড দিতে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাচ্ছে, তাদের ছেড়ে দিচ্ছি; যারা মানছেন না তাদের আইনের আওতায় আনছি।’

default-image

জরিমানার শিকার শিশির আবেদিন নামের এক সিএনজিচালক বলেন, ‘ব্যক্তিগত সিএনজি চালানোর জন্য তিন হাজার টাকা জরিমানা করেছে। রোগী নিয়ে ঢাকা মেডিকেল থেকে যাচ্ছিলাম। তারপরও জরিমানা করেছে।’

এর আগে ধানমন্ডিতে অনেকগুলো রেস্তোরাঁয় অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মো. মামুনুর রশিদ। তবে রেস্তোরাঁর ভেতরে কেউ বসে খাচ্ছে না, বরং অনলাইনে অর্ডার দিয়ে গ্রাহকেরা খাবার নিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

গুলশানের ‘অবৈধ’ স্পা সেন্টারে অভিযান


গুলশান ২ নম্বরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) স্বাস্থ্যবিধি তদারকিতে চলা অভিযানের সময় একটি স্পা সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। জাহেদ প্লাজার পঞ্চম তলায় অবৈধ একটি স্পা সেন্টারে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়।

ভেতর থেকে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভ্রাম্যমাণ আদালত স্পা সেন্টারে প্রবেশ করেন। সেখানে এক বেডের রুম, স্পা করার উপকরণ ও আজকের উল্লিখিত তারিখসংবলিত কাস্টমারের রসিদও পাওয়া যায়।

অভিযান পরিচালনাকারী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (উপসচিব) মোহাম্মদ আবদুল হামিদ মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভবনমালিক ও মিস্ত্রিকে ডেকে তালা ভাঙার পর ভেতরে দেখলাম, পরিবেশটা এমন যে এখানে অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল বলে বোঝা যাচ্ছে। এখানের সবকিছু জব্দ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

সিসি টিভি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ, রেজিস্টার খাতা দেখে সার্বিক পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান শেখ মো. মামুনুর রশিদ।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন