বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মঞ্চে তিন ট্রাস্টির হাসিমাখা মুখের ছবির সামনে শুভ্র ফুলের স্তবক সৃষ্টি করেছিল শুচিস্নিগ্ধ পরিবেশ। কেবল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরই নয়, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে নানাবিধ কাজে বর্ণময় জীবন কাটিয়েছেন তাঁরা। সেসব নিয়ে শরিফ রেজা নির্মিত একটি ভিডিও উপস্থাপনা ছিল শুরুতে।

এরপর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভূমিকাসহ তিন ট্রাস্টির জীবনালেখ্য তুলে ধরলেন প্রথিতযশা নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার। তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে নাগরিক উদ্যোগে যত কাজ হয়েছে, তার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। সমমনা আটজন ট্রাস্টি একদিন এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা আজ সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা ও সরকারের সমর্থনে বিশাল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

রবিউল হুসাইন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্যে ডিগ্রি নিয়ে স্থপতি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও কাব্যচর্চা এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। কবিতা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরসহ দেশের বিভিন্ন জাদুঘরের স্থাপত্য নকশা এবং সারা দেশের বধ্যভূমিগুলোতে যে ফলক বসানো হচ্ছে, তার নকশাও করেছেন তিনি। বাংলা একাডেমি ও একুশে পদকে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৯৪৩ সালে জন্ম, অনন্তলোকে যাত্রাকাল ২০১৯।

জিয়াউদ্দিন তারিক আলী পেশায় ছিলেন প্রকৌশলী, জন্ম ১৯৪৫ সালে। খুব আবেগপ্রবণ মানুষ ছিলেন। দেশের প্রতি ছিল গভীর ভালোবাসা। মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠসৈনিক। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নতুন ভবনটি নির্মাণকালে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। সরল মনের এই মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে লোকান্তরে গেছেন ২০২০ সালে।

আলী যাকের ছিলেন ব্যবসা থেকে অভিনয়—সর্বক্ষেত্রে একজন সফল মানুষ। তাঁর জন্ম ১৯৪৪ সালে। তিনিও চলে গেলেন গত বছর। নাট্যমঞ্চের গ্যালিলিও, ম্যাকবেথ, দেওয়ানগাজী, নূরলদীনসহ যে অসাধারণ চরিত্রগুলোতে তিনি অভিনয় করেছেন, তা যেন তাঁর জন্যই সৃষ্টি হয়েছিল। শখ ছিল ছবি তোলার। কাজ করেছেন কণ্ঠযোদ্ধা হিসেবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। রামেন্দু মজুমদার বললেন, তাঁরা নেই, কিন্তু এই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর যত দিন থাকবে, তাঁদের স্মৃতিও অম্লান থাকবে।

পরে কবি রবিউল হুসাইনের দুটি কবিতা আবৃত্তি করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সাংসদ আসাদুজ্জামান নূর। তামান্না রহমান ও তাঁর দল নৃত্যমের শিল্পীরা ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠান শেষ হয়েছিল লাইসা আহমেদ লিসার গাওয়া ‘আছে মৃত্যু’ ও ‘ধায় যেন মোর’ এবং খায়রুল আনাম শাকিলের গাওয়া ‘ভেসে আসে সুদূর স্মৃতির সুরভি’ ও ‘কেউ ভোলে না কেউ ভোলে’ গানে গানে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন