default-image

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের মৃত্যুতে সামাজিক বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, সৎ নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন লতিফুর রহমান। তাঁদের শোকবার্তায় মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে লতিফুর রহমানের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার কুমিল্লায় নিজ বাড়িতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন লতিফুর রহমান। গত রাতে ঢাকার বনানী কবরস্থানে ছোট মেয়ে শাজনীন তাসনিম রহমানের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।

লতিফুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাংসদ রাশেদ খান মেনন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ব্যবসার ক্ষেত্রে নীতি–নৈতিকতা ও মূল্যবোধের যে দৃষ্টান্ত লতিফুর রহমান রেখে গেছেন, তা অনুকরণীয়। আজ যখন দেশের শিল্প–ব্যবসা ঋণখেলাপি, করখেলাপি ও দুর্বৃত্তদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে, সেখানে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি কেবল নিজের ব্যবসায়িক আদর্শই নয়, ব্যবসায়িক সংগঠনের ক্ষেত্রে সৎ নেতৃত্ব প্রদান করারও উদাহরণ স্থাপন করেছেন। মেনন বলেন, তাঁর নাতি ফারাজ হোসেনের মৃত্যুর দিনে তাঁর এই প্রয়াণ কাকতালীয় হলেও খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। সাহস, দক্ষতা ও শিষ্টাচারের প্রতীক হিসেবে লতিফুর রহমানকে সবাই স্মরণ করবে। বিবৃতিতে তিনি তাঁর পরিবার, ট্রান্সকম, প্রথম আলোর সব সদস্যের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

শোকবার্তায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আওয়াল মিন্টু বলেছেন, লতিফুর রহমানের মৃত্যু তাঁকে বেদনাহত করেছে। তিনি প্রার্থনা করেছেন, যাতে মরহুমের পরিবারের সদস্যরা এই সীমাহীন শোক ও অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার শক্তি, সাহস ও ধৈর্য লাভ করতে পারেন।

লতিফুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সাবেক সাংসদ মুসফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে মরহুমের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যু দেশ ও জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তিনি অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।

গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, তিনি ছিলেন একজন নীতিনিষ্ঠ শিল্পোদ্যোক্তা। দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতায়ও তিনি ছিলেন অঙ্গীকারবদ্ধ মানুষ।

শোক প্রকাশ করেছেন ক্রীড়ালোকের প্রধান সম্পাদক কামরুল হাসান। শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, ‘দেশের অন্যতম আলোকিত ব্যক্তিত্ব লতিফুর রহমানের চিরপ্রস্থানে আমি মর্মাহত। তাঁর মতো ব্যবসায়ী নেতৃস্থানীয় চরিত্রের বিদায় নেওয়া অপূরণীয় ক্ষতি।’

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সংস্থাটির সভাপতি মুফলেহ আর ওসমানী। শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, দানশীল লতিফুর রহমান আঞ্জুমানের পৃষ্ঠপোষকদের একজন ছিলেন। তাঁর সাহায্যের মাধ্যমে আঞ্জুমান এতিম ও অতিদরিদ্রদের সেবা করতে সক্ষম হয়েছে। লতিফুর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এতিম শিশুরা বিশেষ প্রার্থনা করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শোক প্রকাশ করে বার্তা পাঠিয়েছে ঢাকা সংবাদপত্র হকার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান স্বাক্ষরিত শোকবার্তায় বলা হয়েছে, ‘প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকার কর্ণধার লতিফুর রহমানের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।’ তিনি মৃত্যুর আগের দিনও ঢাকা সংবাদপত্র হকার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডকে কমিশন বাবদ অতিরিক্ত ৫ শতাংশ দিয়ে গেছেন, এতে আমরা কৃতজ্ঞ। তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সমিতির পক্ষ থেকে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের প্রতি আবেদন জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘লতিফুর রহমান অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা একজন অভিভাবক হারালাম।’ সমিতির পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

লতিফুর রহমানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। তিনি বলেন, লতিফুর রহমান ব্যক্তিগত জীবনে সৎ, নিষ্ঠাবান ও জনদরদি লোক ছিলেন। তিনি দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের অগ্রগতিতে তাঁর অনেক অবদান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন