বিজ্ঞাপন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মাহির মিলন পুরান ঢাকা থেকে কারওয়ান বাজারে এসেছিলেন ব্যক্তিগত কাজে। তাঁর আসতে সময় লেগেছে আধা ঘণ্টা। স্বাভাবিক সময়ে লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা।

এমন অবস্থা রাজধানীর অন্য সড়কগুলোতেও। করোনার সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত লকডাউন চলছে। এর মধ্যেই গত সপ্তাহ থেকে গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে। প্রথম দিকে ফিরে এসেছিল রাজধানীর সেই চিরচেনা যানজট। তবে ঈদ উপলক্ষে মানুষ গ্রামের দিকে ছুটতে থাকায় গতকাল থেকেই রাজধানীর যানজট কমে গেছে।

এদিকে বিভিন্ন মার্কেটেও মানুষের কেনাকাটার ভিড় কমে এসেছে। রাজধানীর পুলিশ প্লাজা, বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, আজিজ মার্কেট, সুপার মার্কেট ঘুরে দুপুর পর্যন্ত মানুষের উপস্থিতি কম দেখা গিয়েছে। গরম কম থাকায় মানুষও স্বচ্ছন্দে কেনাকাটার সুযোগ পেয়েছে। অনেকের মধ্যে আবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে কেনাকাটা করতে সপরিবার এসেছিলেন নুসরাত জাহান। পরিকল্পনা ছিল শুধু নিজের ও মেয়ের জন্য নতুন জুতা কিনবেন। কিন্তু ভিড় কম থাকায় জামা দেখা শুরু করেছেন তিনি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেও তাঁদের দেখা যায়।

দোকান ব্যবসায়ীরা বলেন, ঈদ উপলক্ষে মানুষের কেনাকাটা মোটামুটি গতকালেই শেষ হয়ে গেছে। যাঁরা একদমই সুযোগ পাননি, তাঁরাই আজ আসছেন। বেচাবিক্রি ঈদের তুলনায় কম।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) ইফতেখায়রুল ইসলাম বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে অফিস বন্ধ থাকায় এবং উৎসবকেন্দ্রিক মানুষের কেনাকাটাও শেষ হওয়ায় যানজট ও মানুষের উপস্থিতি কমেছে। শেষ সময়ে ঘরেই ঈদে উদ্‌যাপন করায় মানুষের তাড়া নেই। আশা করছি নগরবাসী স্বাচ্ছন্দ্যেই উৎসব পালন করবে।’

ঈদ উপলক্ষে নগরের নিরাপত্তা বিষয়ে ইফতেখায়রুল ইসলাম বলেন, এবার ঈদগাহতে জামাতের সুযোগ নেই। মুসল্লিদের মসজিদেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। যাঁরা বাড়িতে গেছেন, তাঁদের ফাঁকা বাসায় যেন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য নিয়মিত টহল চলছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন