বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের টুইটার ও ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ছিল রুনার হাতে। রাজধানীর ধলপুরে শিশু ও নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য রুনা। তিনি কমিউনিটির শিশুদের শিক্ষা এবং কিশোরী ও যুব নারীদের অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও কাজ করেন। আজ ১১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে রুনাকে এক দিনের জন্য প্রতীকী রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত করে সুইডেনের দূতাবাস।

তাঁর পদে এক দিনের জন্য রুনাকে নিযুক্ত করার কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্স বার্গ ফন লিন্ডের আজ সকালে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, আজ আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দূতাবাস জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করে বলে এ দিনে জেন্ডার সমতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মেয়েদের এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ, একটি মেয়ের মধ্যে যে সম্ভাবনা থাকে, তা কাজে লাগাতে গিয়ে সে নানা বাধার সম্মুখীন হয়।

রুনা আজ রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কী করলেন, তা জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা দূতাবাসে আজ সকাল শুরু করেছি তাঁর সঙ্গে বৈঠক করার মধ্য দিয়ে। আমার টুইটার ও ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ছিল আজ তাঁর হাতে।’

শিশুনীতি অনুসরণ করে রুনার পুরো নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি এবং তাঁর সঙ্গে গণমাধ্যমের কথা বলার সুযোগ রাখা হয়নি। তবে জানানো হয়েছে রুনা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। পারিবারিক আয়ের উৎস খাবারের ব্যবসা। পরিবারের দুই সন্তানের মধ্যে রুনা বড়।

সুইডেনের রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও সুইডেন দূতাবাসে সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং দুপুরের খাবার খেয়েছেন রুনা।

এদিকে আজ সুইডেনের দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ২০২১ উপলক্ষে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আয়োজিত এই পদ গ্রহণ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাটির ‘গার্লস টেকওভার’ নামক এক বিশেষ বৈশ্বিক কর্মসূচির অংশ। প্রতিবছর বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ‘মেয়ে আমি সমানে সমান’ ক্যাম্পেইনের আওতায় এই আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো কিশোরী ও যুব নারীদের সক্ষমতা তৈরি এবং নেতৃত্ব বিকাশে বিশ্বব্যাপী আওয়াজ তোলা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, এ পদে প্রতীকী দায়িত্ব পালন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রুনা বলেছেন, ‘আমাদের কমিউনিটিতে মেয়েরা অধিকাংশ সময়ই বুঝতে পারে না তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বিকাশের মাধ্যমে তারা কত দূর পৌঁছাতে সক্ষম। তারাও পারে নেতৃত্ব পর্যায়ে পৌঁছে সমাজে পরিবর্তন আনতে।’

এই বছর প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ পুরো মাসেই প্রায় ৭০টি টেকওভারের আয়োজন করেছে, যেখানে রুনার মতো দেশের নানা প্রান্তের মেয়েদের দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সমতা এবং সমান উপস্থাপন নিশ্চিতে জোরালো আওয়াজ তোলার লক্ষ্যে এই আয়োজন। সরকারি-নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদ এক দিনের জন্য প্রতীকীভাবে গ্রহণ করবেন এই মেয়েরা।

জেন্ডার সমতা, নারী ও মানবাধিকার প্রচারের লক্ষ্যে সুইডেনের নারীবাদী কূটনৈতিক নীতিমালা অনুযায়ী দেশটির বাংলাদেশে অবস্থিত দূতাবাস এই গার্লস টেকওভার কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

মাসব্যাপী কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে যেসব পদ প্রতীকীভাবে গ্রহণ করা হবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রের পদ, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক, চট্রগ্রাম বিভাগের রাঙামাটি, টেকনাফ এবং কক্সবাজারের ইউপি চেয়ারম্যান এবং সিলেটের সমাজসেবা দপ্তরের উপপরিচালক।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন