বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত বছরের শেষের দিকে এ উদ্যোগ নেন ঢাকা রেলওয়ে জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন। নিজস্ব অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এখনো এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়নি। সাইফুল্লাহ আল মামুনের ভাষ্য, এ ধরনের হাজতখানা দেশে এটিই প্রথম।

সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণই পুলিশের মুখ্য দায়িত্ব। অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁকে সুপথে আনতে নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করতে হয়। তিনি হয়তো সাময়িক ভুলের কারণে অপরাধী হয়েছেন। হাজতে এসে তাঁর মনোজগতের পরিবর্তন হতে পারে। নিজেকে সংশোধন করে তিনি সুন্দর মনের মানুষে পরিণত হতে পারেন। তিনি যেন আর অপরাধে না জড়ান, একটি সুন্দর জীবন গড়ে তোলেন, সেই স্বপ্ন দেখাতেই হাজতখানাকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি ছাড়াও ভুলগুলো সংশোধন করতে তাঁরা উদ্যোগী হবেন।

হাজতখানার চিত্র

৬ ডিসেম্বর ঢাকা রেলওয়ে থানার হাজতখানায় গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে তিনজন হাজতি। পুলিশের ভাষায়, তাঁরা ‘ছোটখাটো অপরাধে’ জড়িয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দেয়ালের এক পাশে বইয়ের তাক। ধর্মবিষয়ক ছাড়াও নীতিবাক্য-সংবলিত একাধিক বইও রয়েছে সেখানে।

হাজতখানার বইয়ের তাকের ওপরের দেয়ালে চোখ আটকে গেল। সেখানে লেখা, ‘অপরাধের সূত্রপাত এই দুটি হাত/ মানবো না এই অজুহাত/ শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি বিশ্বস্ত অস্ত্র হস্ত/ জগতে মহৎ কর্মে রাখিব ব্যস্ত’ এবং ‘ক্ষমাও এক প্রকার শাস্তি। ক্ষমার মহত্ত্ব বুঝতে ব্যর্থ ব্যক্তিরা ক্ষমার অযোগ্য, ক্ষমা একজন মহৎ ব্যক্তিই করতে পারেন।’

হাজতখানার মেঝেতে মার্বেল পাথর বসানো। পড়ার জন্য কংক্রিটের টেবিল বানানো হয়েছে। হাজতে শোয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সুপেয় পানির ব্যবস্থাও আছে। আছে আধুনিক একটি শৌচাগারও।

ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল হক প্রথম আলোকে বলেন, আসামিরা অল্প সময়ের জন্য হাজতে থাকেন। এই অল্প সময়ের মধ্যে তাঁদের কাউন্সেলিং করা হয়। অপরাধের পথ থেকে ফিরে আসার জন্য তাঁদের নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করা হয়। তাঁদের সামনে সুন্দর সময় পড়ে আছে। তাঁরা অপরাধে না জড়িয়ে অনেক মহৎ কর্মে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারেন। এ বিষয়গুলো তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়।

মাজহারুল হক দাবি করেন, শুধু পাঠাগার স্থাপন নয়, গত এক বছরে থানার চিত্রই বদলে গেছে। কোনো সেবাপ্রার্থী যেন মনঃক্ষুণ্ন না হন, সেদিকে এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবকাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। থানার সামনে সাধারণ মানুষের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিশুদের জন্য চকলেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন