আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ইমাম হাছান। রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

পরে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের পাশাপাশি স্থগিতাদেশ চেয়ে রাজউক আবেদন করে। চেম্বার আদালত স্থগিতাদেশ না দিয়ে আবেদনটি ২৭ জুন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়েছেন। এ অবস্থায় হাইকোর্টের রায় বহাল থাকছে।

আদালতের নির্দেশনা ও পরামর্শ

হাতিরঝিলের পানি ও এর নান্দনিক সৌন্দর্য মহামূল্যবান জাতীয় সম্পত্তি উল্লেখ করে এর সংরক্ষণ ও উন্নয়নে কয়েক দফা নির্দেশনা ও ৯ দফা পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রায়ে বলা হয়, হাতিরঝিল এলাকায় হোটেল, রেস্টুরেন্টসহ সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বরাদ্দ ও নির্মাণ সংবিধান, পরিবেশ আইন, পানি আইন ও তুরাগ নদের রায় অনুযায়ী বেআইনি ও অবৈধ।

রায়ে আরও বলা হয়, হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় বরাদ্দকৃত সব হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অবৈধ ও এখতিয়ারবহির্ভূত মর্মে এসব বরাদ্দ বাতিল ঘোষণা করা হলো। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে সব হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।

হাতিরঝিল–বেগুনবাড়ি সম্পূর্ণ প্রকল্পটি সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য একটি আলাদা কর্তৃপক্ষ তথা ‘হাতিরঝিল লেক সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ’ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সরাসরি অধীনে গঠন করার পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রকৌশল বিভাগ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪তম ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডকে যৌথভাবে হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকার স্থায়ী পরামর্শক নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে রায়ে। অপর পরামর্শে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য মাটির নিচে আন্তর্জাতিক মানের শৌচাগার স্থাপন করতে বলা হয়েছে।

আদালতের দেওয়া পরামর্শের মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত দূরত্বে বিনা মূল্যে জনসাধারণের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা; পায়ে চলার রাস্তা, বাইসাইকেল লেন ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আলাদা লেন তৈরি করা; পানির জন্য ক্ষতিকর এমন যান্ত্রিক যান তথা ওয়াটার ট্যাক্সি সার্ভিস ব্যবহার নিষিদ্ধ করা; লেকে মাছের অভয়ারণ্য করা; হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ী প্রকল্পটি বাংলাদেশের প্রথম বাঙালি বিজ্ঞানী স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর নামে নামকরণ করা; হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ি সম্পূর্ণ প্রকল্পটি সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও পরিচালনার ব্যয় রাজস্ব বাজেট থেকে বরাদ্দ করা।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, প্রতিটি ফোঁটা পানি অতি মূল্যবান। পানির চেয়ে তথা সুপেয় পানির চেয়ে মূল্যবান আর কোনো সম্পদ এ পৃথিবীতে নেই। সুতরাং প্রতি ফোঁটা পানির দূষণ প্রতিরোধ একান্ত আবশ্যক।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন