আজ মঙ্গলবার বিকেলে মোহাম্মদপুরে কলাকেন্দ্রে ছিল প্রদর্শনীর অনাড়ম্বর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সেখানে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা তৌফিক–ই–ইলাহী চৌধুরী ও শিল্পসমালোচক মুস্তফা জামান। পুরোনো পরিচয়ের সূত্র ধরে হামিদুজ্জামান খানের ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করেন তৌফিক–ই–ইলাহী চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘শিল্পীর বয়স প্রায় আমার সমান। এই বয়সেও তিনি এত পরিশ্রম করতে পারেন, ভেবে অবাক হতে হয়। দিনের পর দিন তিনি স্কাল্পচার পার্কে কাজ করে সেটিকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন।’

default-image

মুস্তফা জামান বলেন, ‘এর আগে হামিদুজ্জামান খানের একধরনের কাজ দেখেছি আমরা। সেসব দেখলে একরকম ধাঁধার সৃষ্টি হয়। এই প্রদর্শনীটির রয়েছে একধরনের সামগ্রিকতা। এখানে অনেক রকম কাজের মধ্য দিয়ে অন্য রকম এক হামিদুজ্জামান খানকে পাওয়া যাবে।’

প্রদর্শনী ঘুরে দেখতে দেখতে কাচের বাক্সের ভেতরে আঙুল তুলে দেখালেন শিল্পী নিজেই। বললেন, ‘ওই ভাস্কর্যটা ধানমন্ডিতে আছে। পুরোটাই লোহার তৈরি, ওজন প্রায় তিন টন।’

প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া এ রকম বেশ কিছু ধাতব ভাস্কর্য রয়েছে, ইতিমধ্যে যেসবের অতিকায় সংস্করণ তৈরি করেছেন শিল্পী। বিভিন্ন স্থাপনা ও স্থানের সৌন্দর্যে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে সেগুলো। আরও কিছু ভাস্কর্য রয়েছে, শিগগিরই হয়তো সেগুলো সুধীজনের নজর কাড়বে। প্রদর্শনীতে রয়েছে মার্বেল ও স্টিলের ভাস্কর্য। আছে অ্যাক্রিলিক ও কালিতে আঁকা চিত্রকর্ম ও স্থাপনাশিল্প। এর মধ্যে বিশেষভাবে নজর কাড়বে সাড়ে ৬ ফুট বাই ১৬ ফুটের একটি ক্যানভাস। যেটার ওপরে অ্যাক্রিলিকে ছবি এঁকেছেন শিল্পী। ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী ঘুরে আসা যাবে।

default-image

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কড্ডায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে চলছে ‘হামিদুজ্জামান খান স্কাল্পচার পার্ক’-এর কাজ। নিয়ম করে সেখানে কাজ করে যাচ্ছেন শিল্পী। দুই একর পার্কে রয়েছে ম্যুরাল ও ২০টি ভাস্কর্য। কবে নাগাদ শেষ হবে পার্কের কাজ? জানতে চাইলে হামিদুজ্জামান খান বলেন, ‘এটা হয়তো কখনোই শেষ হবে না। আমি আজীবন সেখানে কাজ করে যেতে চাই।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন