default-image

‘জাগো জাগো জাগো সর্বহারা/ অনশন বন্দী ক্রীতদাস/ শ্রমিক দিয়াছে আজ সাড়া/ উঠিয়াছে মুক্তির আশ্বাস...৷’ আজীবন সাম্যবাদের আন্দোলন করে যাওয়া সদ্যপ্রয়াত কমিউনিস্ট নেতা, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক সংগঠক হায়দার আনোয়ার খান জুনোর বিদায়বেলায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বেজে উঠল মুক্তিকামী মানুষের প্রিয় এই গানটি৷
হায়দার আনোয়ার খান জুনো বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন৷ ১৯৪৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর কলকাতায় জন্ম নেওয়া হায়দার আনোয়ারের পৈতৃক বাড়ি নড়াইল জেলায়৷ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহটি আজ বেলা পৌনে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয়৷

হায়দার আনোয়ার খান জুনোকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসেছিলেন দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা৷ তাঁরা ফুল দিয়ে প্রয়াত হায়দার আনোয়ারকে শেষ শ্রদ্ধা জানান, অনেকে শোকবইতে তাঁর সংগ্রামী জীবনের ওপর মন্তব্য লেখেন, কেউ কেউ বক্তব্য দেন৷ সাড়ে ১১টার দিকে শহীদ মিনারের সামনেই প্রয়াত এই মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘গার্ড অব অনার’ দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বাংলাদেশ পুলিশ৷ এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে৷ সেখানে বাদ জুমা হায়দার আনোয়ারের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা৷

বিজ্ঞাপন

হায়দার আনোয়ার খানকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও ছাত্রজীবনে তাঁর সহযোদ্ধা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর৷ শোকবইতে স্বাক্ষর করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছাত্রজীবনে আমি হায়দার আনোয়ার খান জুনো ভাইয়ের সঙ্গে পূ্র্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন করেছি৷ তিনি একজন মিতভাষী মানুষ ছিলেন, কম কথা বলতেন৷ আজকালকার দিনে তাঁর মতো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক নেতা খুব কম দেখা যায়৷ তাঁর সঙ্গে অনেক দিন দেখা হয়নি৷ আমার কষ্ট হচ্ছে, তিনি যখন খুব অসুস্থ ছিলেন, কোভিডের কারণে তাঁকে দেখতে যেতে পারিনি৷ তাঁর মৃত্যুর খবরটি পাওয়ার পর থেকে আমার মনে হয়েছে যে আসলে এই মানুষটির চলে যাওয়া আমাদের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে একটা বড় শূন্যতা সৃষ্টি হলো৷ আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি৷ প্রার্থনা করছি, তিনি যেন পরকালে শান্তিতে থাকেন, ভালো থাকেন৷’

default-image

এসেছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী৷ তিনি বলেন, হায়দার আনোয়ার খান জুনো একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা৷ তিনি দেশের অভ্যন্তরে থেকে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন৷ তাঁর মতো মানুষদের স্মরণসভা নিয়মিত করতে হবে৷

মুঠোফোনে যুক্ত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, হায়দার আনোয়ার জুনো সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ছিল, যা রাজনৈতিক আন্দোলনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ছিল৷ আমরা তাঁর প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা জানাতে পারব, যদি সে যে আন্দোলনে ছিল, তাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারি৷

যতই আমরা এগোবো, জুনো ততোই আমাদের মাঝে উজ্জ্বল হয়ে উঠবেন৷
মুঠোফোনে যুক্ত হয়েছিলেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক গৌতম দাস৷ হায়দার আনোয়ার খানের পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের এই আয়োজনে বক্তব্য দেন তাঁর কন্যা অনন্যা লাবনী পুতুল৷ তিনি বলেন, মানুষ হিসেবে আমার বাবা ভদ্র, বিনীয়, সমব্যথী, মৃত্যু ও স্নেহময় ছিলেন৷ বাবার ইচ্ছা ও স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নেওয়াই হবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি৷

প্রয়াত হায়দার আনোয়ার খানকে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক-ছাত্র ও সামাজিক সংগঠন৷ এ ছাড়াও শেষ শ্রদ্ধা জানান কমিউনিস্ট এই নেতার রণাঙ্গনের সহযোদ্ধা, সাংবাদিক বন্ধু, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সহযোদ্ধারা৷

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0