default-image

রাজধানীর গুলশান–২ থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকা নিতে আসেন সুরাইয়া হোসেন। ৮৬ বছর বয়সী এই নারী চলাফেরা করেন হুইলচেয়ারে। টিকা নেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি জানালেন, প্রত্যেকের উচিত টিকা নেওয়া। শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যের সুরক্ষার জন্যও এটা গুরুত্বপূর্ণ। টিকা নেওয়া ভয়ের কোনো বিষয় নয়। ভয় পাওয়ারও কিছু নেই।

সুরাইয়া হোসেনকে টিকা দেওয়ার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। টিকা নিতে হুইলচেয়ারে বসেই নিজের হাতেই উপস্থিতি ফরম পূরণ করেন তিনি।

আজ রোববার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টিকাদানকেন্দ্রের টিকাদান কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টিকাদানকেন্দ্রের দেওয়া তথ্যমতে, আগের দিন শনিবারের তুলনায় আজ টিকা নিতে আসা মানুষের উপস্থিতি কিছুটা কম। টিকাদানকেন্দ্রের আটটি বুথে সকাল ৮টা থেকে একযোগে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা বুথ রয়েছে। সকাল ৮টায় টিকাদান শুরুর পর দুপুর ১২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ১০৩ জন নারী ও ১৩১ জন পুরুষ টিকা নিতে কেন্দ্রে আসেন। বেলা আড়াইটা পর্যন্ত টিকাদান চলে।

বিজ্ঞাপন
default-image

টিকা নিতে আসা মানুষের উপস্থিতি কম হওয়ার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক চিকিৎসক আশরাফুল আলম বলেছেন, টিকাদানকেন্দ্রে এসে নিবন্ধন করে টিকা নেওয়া সুযোগ না থাকায় উপস্থিতি কমতে পারে। আগে অন্য স্থানে নিবন্ধনের পরও এখানে টিকাদানের সুযোগ ছিল। এখন সেটাও সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া মেডিকেলের কর্মীদের বেশির ভাগই ইতিমধ্যে টিকা নিয়ে ফেলেছেন। ফলে সব মিলিয়ে কমেছে উপস্থিতি। শনিবার ঢাকা মেডিকেলে ৯০০ জন টিকা নেন বলে জানান তিনি।
৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিকে টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের আগ্রহ কম থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকাদান কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা ছিল বেশ সুশৃঙ্খল। অনলাইনে নিবন্ধন করে আসা ব৵ক্তিরাই কেবল টিকাদানের সুযোগ পাচ্ছেন। আজ টিকা নিতে আসা ব্যক্তিদের বেশির ভাগের বয়স ৬০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে। ভিড় কম থাকায় আসার কয়েক মিনিটের মধ্যেই টিকাদানের সুযোগ পান তাঁরা। টিকা গ্রহণের পর কয়েক মিনিট পর্যবেক্ষণের জন্য অপেক্ষমাণ কক্ষে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে তাঁদের।

default-image

ধানমন্ডি থেকে টিকা নিতে আসেন দম্পতি হাবিবুর রহমান (৭০) ও সখিনা বেগম (৬৩)। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন এক মেয়ে ও এক ছেলে। টিকা নেওয়ার পর সখিনা বেগম বলেন, টিকাদানের পরিবেশ খুবই ভালো। কোনো বিশৃঙ্খলা নেই।

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ শাহাদত হোসেনের বয়স ৭০ বছর। ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসক মেয়ের সঙ্গে টিকা নিতে এসেছেন তিনি। টিকা নেওয়ার পর পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কক্ষে অপেক্ষা করেছিলেন শাহাদত হোসেন। পাট অধিদপ্তরের এই সাবেক কর্মকর্তা বলেন, এখানে যাঁরা টিকা নিতে এসেছেন, তাঁদের প্রায় সবাই শিক্ষিত ও উচ্চপর্যায়ের লোকজন। সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের উপস্থিতি নেই। তাঁদেরও টিকা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্তি জরুরি। এই বিষয়টি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে টিকাদান কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্তি করার পরিকল্পনা সরকারের উচ্চপর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেলের সহকারী পরিচালক চিকিৎসক আশরাফুল আলম।

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন