বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খন্দকার আল মঈন বলেন, সুজন শেখ ওই প্রতারক চক্রের মূল হোতা। গত দুবছর ধরে তিনি এই প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত আছেন। তাঁর চক্রের সদস্য সংখ্যা ১২ থেকে ১৫ জন। তাঁরা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, মাগুরাসহ বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় রয়েছেন। চক্রের সদস্যরা সাধারণত গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন কারখানার গাড়িচালক, অটোরিকশাচালক, গৃহকর্মী ইত্যাদি শ্রেণীর কর্মজীবীদের নিশানা করে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন।

চক্রের সদস্যরা প্রতারণার ফাঁদে পড়া লোকদের উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আড়াই থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা আদায়ে চুক্তি করতেন। প্রাথমিক পর্যায়ে এক থেকে ২ লাখ টাকা করে আদায় করেন। এভাবে তাঁরা ৩০০ জনের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার এই পরিচালক বলেন, চক্রের সদস্যরা প্রবাসী কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও বায়রার ওয়েবসাইট দেখে বিভিন্ন অনুমোদিত রিক্রুটিং কোম্পানির নাম ব্যবহার করতেন। এসব কোম্পানির নামে ভিজিটিং কার্ড, স্ট্যাম্প ও অন্যান্য নথিপত্র মধ্যপ্রাচ্যে গমনেচ্ছুদের দেখিয়ে আস্থা অর্জন করতেন। প্রতারণার কৌশল হিসেবে ভুয়া টিকেট, ভিসা, ভ্যাকসিন কার্ড, বিএমইটি কার্ড তৈরি করতেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রাহকদের ১৫ দিনে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভনে আকৃষ্ট করে পরে বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে দীর্ঘসূত্রতার আশ্রয় নেওয়া হতো। তাঁদের বলা হতো, ব্যাংক ঋণ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। যাঁরা পুরো টাকা দিতেন তাঁদের বিভিন্ন গ্রুপে ভুয়া ভিসা, টিকিটসহ বিমানবন্দর এলাকায় নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হতো। প্রতারক চক্র বদলে ফেলত অফিসও।

এদিকে চক্রের হোতা সুজন গত ১৫ বছর গুলশান, বনানী, মালিবাগ, কাকরাইলে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি ও দালালি করেছেন এবং সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতারণার অভিনব কৌশল রপ্ত করেন বলে জানান খন্দকার আল মঈন। আর আমিনুল ২০০১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে অবস্থান করতেন। তাঁর বিদেশে যাতায়াত করা ও প্রবাসজীবন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে তাঁর কথাবার্তায় গ্রাহকেরা সহজে আকৃষ্ট হতেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন