বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মেয়রের কাছে প্রথম আলোর প্রশ্ন ছিল, ২০১৯ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছিল। এবারও প্রায় একই অবস্থা। দুই বছরেও পরিস্থিতির উন্নয়ন হয়নি। প্রায় দেড় বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। এই সময়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মেয়রের অর্জন কী? ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেয়র ব্যর্থ হয়েছেন কি না? এসব প্রশ্নের জবাবে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘২০১৯ সালকে আমরা আমাদের সবচেয়ে খারাপ সময় হিসেবে বিবেচনা করি। এ বছর অনেক অপপ্রচার, অপরাজনীতি, কূটকৌশল, বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের বিভিন্ন চক্র থাকা সত্ত্বেও আজ অবধি আমাদের ১ হাজার ৫০ মশক নিধনকর্মী ও কাউন্সিলর, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, মশক শাখার কর্মকর্তা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এর ফলে ২০১৯ সালের তুলনায় ডেঙ্গু রোগী ৯০, ৭৫, ৫০ বা ২৫ শতাংশও নয়; আমরা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।’

মেয়র বলেন, ‘২০১৯ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, শুধু আগস্ট মাসেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৫২ হাজারের ঊর্ধ্বে। সেপ্টেম্বর মাসে হয়েছিলেন ১৬ হাজারের ঊর্ধ্বে। জুলাই মাসে হয়েছিলেন ১৬ হাজারের ঊর্ধ্বে। সব মিলিয়ে সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তখন ১ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে এখন সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় ও আমাদের নিরলস পরিশ্রমের কারণে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজারের মধ্যে রাখতে সক্ষম হয়েছি।’

শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমরা যে কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি, সেটা বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে যথার্থ প্রমাণিত হয়েছে। আমরা ঘরে ঘরে গিয়েছি। ২৭ হাজারের মতো আবাসিক ভবন স্থাপনা পরিদর্শন করেছি। ডেঙ্গুর উৎসস্থল বিনষ্ট করা এবং পর্যাপ্ত কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে লার্ভা ধ্বংস করেছি বলেই আমরা এই সফলতা পেয়েছি।’

বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরে মেয়র বলেন, ‘মশক পরিস্থিতি ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আর সুযোগ নেই। জুলাই মাসে যখন এই পরিস্থিতি ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছিল, তখন আমরা চিরুনি অভিযান শুরু করেছি। তার সুফল ঢাকাবাসী পেয়েছে। আশা করছি আর কিছুদিনের মধ্যে ডেঙ্গুমুক্ত হবে ঢাকা।’

নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে মেয়র বলেন, ‘গত ৪৫ বছরে মাত্র ২৪টি বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র ছিল। আমরা এরই মধ্যে আরও ১২টি নির্মাণ করেছি। আজ নিউমার্কেটে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র উদ্বোধন করলাম। এর মাধ্যমে ৭৫টির মধ্যে ৩৬ ওয়ার্ডে আমাদের বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণ সম্পন্ন হলো।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, এ বছরের মধ্যেই ঢাকা শহরের ৭৫টি ওয়ার্ডে নতুন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র স্থাপন করা সম্ভব হবে, যদিও এটা অত্যন্ত দুরূহ কাজ। কারণ, জমির সংকুলান হয় না এবং বিভিন্ন বাধা আছে। তারপরও এ কার্যক্রম আমরা সফলতার সঙ্গে সম্পাদন করছি। এর মধ্যে আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন করছি।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন