গার্ডেন রোডের মোট সাতটি দোকান ঘুরে দেখা যায়, চারটিতে তেল আছে। তিনটিতে নেই। এসব দোকানে নতুন তেল আসেনি। আগের তেলই নতুন নির্ধারিত বাড়তি দামে বিক্রি করছে। কোনো কোনো দোকানে নতুন দামের চেয়েও বেশি নেওয়া হচ্ছে।

এই এলাকার এস অ্যান্ড এম দোকানের স্যামুয়েল বিশ্বাস বলেন, ‘ঈদের আগে দুই কার্টন রেখেছিলাম। ঈদের আগেই সেগুলো শেষ হয়ে গেছে। তার পর থেকে তেল নেই। অনেক মানুষ এসে ঘুরে যাচ্ছে।’

এখানকার ইকরা জেনারেল স্টোরে সয়াবিন তেলের দাম ১ লিটার ২১০ টাকা এবং আধা লিটার ১০০ টাকা করে দাম চাওয়া হচ্ছিল। এ দোকানের বিক্রেতা আওলাদ হোসেন বলেন, ‘কারওয়ান বাজার গিয়ে গতকাল কোনো তেল পাইনি। এখন অল্প যা আছে, তাই বিক্রি করছি।’

আধা লিটার সয়াবিন তেল ১০০ টাকা দিয়ে কেনার অবস্থা না থাকায় ৮০ মিলিলিটার রাঁধুনী শর্ষের তেল ৩০ টাকা দিয়ে কেনেন বাসাবাড়িতে আয়ার কাজ করা মোমেনা বেগম। তিনি বলেন, ‘তেল কেনার অবস্থা এখন আমাদের নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে এই এলাকায় থেকে কোচিং করছেন পল্লব সূত্রধর ও প্রত্যয় চৌধুরী। মেসে তাঁরা চারজন থাকেন। তাঁরা ঈদের আগে আধা লিটার তেল কিনেছিল ৮৫ টাকা দিয়ে। আজ দুটি দোকান ঘোরার পর একটি দোকানে তেল পান। সেখানে আধা লিটার তেল ৯৬ টাকায় দিতে রাজি হলে তাঁরা নেননি। পল্লব বলেন, ‘দেখি এর চেয়ে কম দামে পাই কি না।’

ঈদের আগে থেকেই বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দেয়। গত বৃহস্পতিবার সয়াবিন তেলের দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেল খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হবে ১৯৮ টাকায়।

আর ৫ লিটারের বোতলের দাম হবে ৯৮৫ টাকা। এ ছাড়া খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮০ টাকা এবং খোলা পাম তেল প্রতি লিটার ১৭২ টাকায় বিক্রি হবে। তবে এর চেয়েও বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন