আজ রোববার ভোরে ফজরের আজানের আগেই ঘুম থেকে উঠেছেন আবদুল হক। সকাল ৮টায় যাত্রাবাড়ীর একটি মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এরপর সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হয় তাঁর কোরবানির পশুর মাংস প্রস্তুতের কাজ। প্রথমেই একটি গরু কোরবানি দেওয়ার পর সেটার মাংস কেটে ভাগ করেন তিনি ও তাঁর দল। দুপুর ১২টা নাগাদ কথা হয় আবদুল হকের সঙ্গে। জানালেন, এ সময়ের মধ্যে তিনি ও তাঁর দলের লোকজন বড় আকারের দুটি গরুর মাংস প্রস্তুত করেছেন।

আবদুল হক জানালেন, লাখ টাকা দামের একটা গরুর মাংস প্রস্তুত করতে সাত থেকে আট হাজার টাকা দিতে হয়। এবারের ঈদুল আজহায় যে দুটি গরুর মাংস প্রস্তুত করেছেন, প্রতিটির দাম এক লাখ টাকার বেশি। গরু দুটি যাঁরা কোরবানি দিয়েছেন, তাঁরা তাঁর পূর্বপরিচিত। তাই এবার কত টাকা আয় হবে, তা নিয়ে আপাতত ভাবছেন না তিনি। এবার আবদুল হকের দলে কাজ করছেন ছয়জন। এর মধ্যে একজন তাঁর ছোট ছেলে সোহেল। অন্য চারজনকে বরিশাল থেকে এনেছেন।

প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে আবদুল হক বলেন, ‘বছরের পর বছর কোরবানির পশুর মাংস প্রস্তুত করার কাজ করতে বেশ ভালো লাগে। প্রতিবার কোরবানির ঈদে এই কাজ করি আমি। এটা আমার পেশা নয়, শখের বশেই কাজটা আমি করি।’

টানা চার দশক ধরে ঈদুল আজহায় মাংস প্রস্তুতের কাজ করছেন, কিন্তু কখনোই হাত কাটেননি আবদুল হক। এ জন্য তাঁর অনেক গর্ব। আলাপের একপর্যায়ে বললেন, ‘কোরবানির মাংস প্রস্তুতের কাজটা করতে হয় অনেক সাবধানে। সতর্ক থাকি বলেই হয়তো এত বছরেও আমার হাত কাটেনি।’

অন্যের কোরবানির পশুর মাংস কেটে প্রস্তুত করে দিলেও কয়েক বছর ধরে নিজে কোরবানি দিতে পারছেন না আবদুল হক। এটা নিয়ে তাঁর কিছুটা আফসোস রয়েছে। বললেন, ‘যহন ব্যবসা জমজমাট ছিল, তখন কোরবানি দিছি। তবে বাপ-দাদার জমি লইয়া বড় মামলা-মোকদ্দমা চলতাছে। আরও নানা ঝামেলা আছে। এ জন্য এখন আর কোরবানি দিতে পারি না।’

আবদুল হকের দুই ছেলে, এক মেয়ে। ছেলেরা বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন। মেয়েকেও বিয়ে দিয়েছেন। আর স্ত্রী মনজুয়ারা বেগম থাকেন বরিশালে। আবদুল হক বলেন, ‘আজ দুইটা বড় গরুর মাংস প্রস্তুত কইরা দিছি। মালিকে যে গোশত দেবে, তা নিয়া দ্যাশে যাব। নাতিরা খাইবে। হেইডাতেই আমি খুশি।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন