মানবাধিকার লঙ্ঘন

৭ বছরেও প্রতিকার পাননি খাদিজা

২০১৩ সালে শিশু গৃহকর্মী খাদিজার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এত দিন পর মানবাধিকার কমিশন তৎপর হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

রাজধানীর মিরপুরে শিশু গৃহকর্মী খাদিজা ২০১৩ সালে নির্যাতনের শিকার হয়। খাদিজা এখন এক সন্তানের মা। নির্যাতনের সেই ঘটনার সাত বছর পার হয়েছে। তবে খাদিজা এখনো কোনো প্রতিকার পাননি। বর্তমানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন খাদিজার ঘটনাটি নিয়ে তৎপর হয়েছে।

কমিশনের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খাদিজার ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সরকারের তরফ থেকে তাঁকে ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দিতে সুপারিশ করতে যাচ্ছে কমিশন।

খাদিজার ওপর নির্যাতনের পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি জানিয়ে যথাযথ প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছিল চিলড্রেন চ্যারিটি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (সিসিবি)। কোনো প্রতিকার না পেয়ে ২০১৮ সালের ২২ ডিসেম্বর সংগঠনটির পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের ৩১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে চলতি বছরের জুনে। রায় পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে খাদিজার ওপর নির্যাতনের বিষয়ে শুনানি করে প্রতিকার দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হাইকোর্টের রায়ের পর এ পর্যন্ত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অনলাইনে দুটি শুনানি করেছে। গত ২৭ আগস্ট শুনানিতে খাদিজা বলেছেন, তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং ঘটনার বিচার চান। পরে চলতি মাসের ৩ তারিখ মানবাধিকার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব আবু হেনা মোস্তফা জামান। তবে শুনানি শেষে কমিশন চূড়ান্ত কোনো সুপারিশ দেয়নি।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম প্রথম আলোকে বলেছেন, খাদিজার ঘটনায় অভিযোগকারী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য শুনেছে কমিশন। বিভিন্ন প্রতিবেদন ও বক্তব্য যাচাই–বাছাই করে কমিশন সরকারের কাছে সুপারিশ করবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব আবু হেনা মোস্তফা জামান বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খাদিজার ঘটনায় তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এখন বিষয়টিতে কমিশন সুপারিশ দেবে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
খাদিজার ঘটনায় বিভিন্ন প্রতিবেদন ও বক্তব্য যাচাই-বাছাই করে কমিশন সরকারের কাছে সুপারিশ করবে।
নাছিমা বেগম, চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

শিশু গৃহকর্মী খাদিজা নির্যাতনের ঘটনাটি আলোচনায় এসেছিল ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার–এ প্রকাশিত একটি সংবাদের সূত্র ধরে। ২০১৩ সালের ১০ ডিসেম্বর প্রকাশিত সংবাদের শিরোনাম ছিল, ‘ডোমেস্টিক হেল্প টর্চার্ড’। ডেইলি স্টার–এর প্রতিবেদনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসকের বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, গরম ইস্তিরি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়াসহ খাদিজার শরীরে বিভিন্ন নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। শিশু খাদিজাও তখন জানিয়েছিল, তাকে প্রায়ই মারধর করা হতো। মিরপুর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। প্রতিবেদনটি দেখে সিসিবি খাদিজার মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার চেয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নজরে আনে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খাদিজার ঘটনা ঘটার পর থেকেই পুলিশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন জায়গায় নানা টালবাহানা চলছে। ২০১৩ সালে পুলিশ যখন খাদিজাকে গৃহকর্তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে, তখন বিক্ষুব্ধ জনতা বাড়ি ঘিরে রেখেছিল। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ১৮ দিন। তবে তখন পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, খাদিজাকে কেউ মারধর করেনি।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দুটি শুনানিতেই উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সিসিবির অবৈতনিক চেয়ারম্যান মো. আবদুল হালিম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মানবাধিকার কমিশনের আইনেই বলা আছে, কমিশন আইনি প্রতিকারের জন্য উচ্চ আদালতে আসতে পারে। কিন্তু কমিশন তা করেনি। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কমিশনের চলে যায় শুধু তাগিদপত্র পাঠিয়ে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন