গাবতলীর মূল হাট ছাড়িয়ে চারপাশের সড়কের ওপরেও সারি সারি পশু নিয়ে বিক্রেতারা দাঁড়িয়ে আছেন। হাটে যথেষ্ট পশুর সরবরাহ রয়েছে। ক্রেতার উপস্থিতিও অনেক। ক্রেতা-বিক্রেতার দর-কষাকষিতে মুখর হাট। হাসিলঘরগুলোর সামনে বিক্রি হওয়া গরুর হাসিল পরিশোধের জন্য দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে।

গাবতলী হাটে ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে দাম যাচাই-বাছাই করছিলেন। দামে বনিবনা হলে ক্রেতা গরু নিয়েই ফিরেছেন। মিরপুর ১৩ নম্বর থেকে হাটে এসেছেন ফয়সাল আহমেদ। ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় একটি দেশি ষাঁড় কিনেছেন। তিনি বলেন, দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় একটু বেশি মনে হয়েছে। বিক্রেতারা দাম কমাচ্ছেন না। কোরবানির পশু কিনতে হবেই, তাই একটু বেশি হলেও নিতে হচ্ছে।

৬ নম্বর হাসিলঘরের সামনে কথা হয় কাজীপাড়া থেকে আসা ক্রেতা ইশতিয়াক হোসেনের সঙ্গে। মাঝারি আকৃতির একটি গরু কিনেছেন ৯৫ হাজার টাকায়। তিনি বলেন, ‘গরুর আকৃতি ও আনুমানিক ওজন অনুযায়ী দাম একটু বেশি। এবার দাম একটু কমবেশি হবে, সেটা ধরেই হাটে এসেছিলাম।’

default-image

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার উপস্থিতিও বাড়ছে। হাটের হাসিলঘরে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বলছেন, বিক্রিও সন্তোষজনক। কোরবানির পশু সাজানোর জন্য হাটে থাকা মালা, রঙিন কাগজ, দড়ির দোকানেও ভিড় জমছে।

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থেকে ৫টি গরু এনেছিলেন আবুল কাশেম। কাল রাত থেকে দুটি গরু বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার সব গরুই একটু বড়–মাঝারি সাইজের। দেড় লাখ থেকে দুই লাখের মধ্যে দাম। সন্ধ্যার মধ্যে সব বিক্রি হয়ে যাবে।’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এ বছর কোরবানির জন্য গরু, ছাগল, ভেড়া ও উট মিলিয়ে ১ কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৯টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি। এর মধ্যে কোরবানি হয় ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি পশু।

আগে ক্রেতার গরু হাঁটিয়ে নিয়ে বাড়ি ফিরতেন। কয়েক বছর ধরে রাজধানীর হাটগুলোর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে সারি সারি ছোট-বড় পিকআপ। দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়ার বিনিময়ে গরু পিকআপে করে বাড়ি পৌঁছে দেন চালকেরা। তাতে ক্রেতাদের পরিশ্রম কম হচ্ছে, সময় বাঁচছে। তবে সুযোগ বুঝে পিকআপচালকেরা ইচ্ছেমতো ভাড়া চাইছেন।

কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে জাল টাকার চক্র বছরের অন্য সময়ের চেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। জাল টাকা শনাক্ত করতে এবার হাট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন স্থানে জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্র বসিয়েছে। সন্দেহ হলেই নোট পরীক্ষা করাতে এবং অপরিচিত লোকের কাছ থেকে কিছু না খাওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ বারবার মাইকে ঘোষণা দিচ্ছে।

তবে করোনা মহামারির প্রকোপ বাড়লেও পশুর হাটগুলোয় স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা দেখা যায়নি। ব্যাপারী, খামারি ও ক্রেতাদের মধ্যে বেশির ভাগেরই মুখে মাস্ক নেই।‌ হাটের প্রবেশমুখে তাপমাত্রা মাপার কোনো ব্যবস্থাও দেখা যায়নি।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন