default-image

রাজধানীর মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ভবনে এখন পর্যন্ত লিফট লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি গত দুই মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির কোনো বৈঠকও হয়নি। চলতি মাসের শুরুতে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে স্কুল ভবনের নবম তলায়। শিক্ষার্থীদের হেঁটে উঠতে হয়েছে। এখন নবম শ্রেণির ক্লাসও চলছে নবম তলায়।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুলে গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল সূত্র ছাড়াও অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য পাওয়া যায়। এক ছাত্রের অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, গত কয়েক দিন তাঁর ছেলে স্কুল থেকে ফিরে কান্না করে বলেছে, সিঁড়ি বেয়ে এত ওপরে উঠে ক্লাস করতে তার অনেক কষ্ট হচ্ছে। সে ওই স্কুলে পড়তেও চাইছে না। মতিঝিল এজিবি কলোনি এলাকায় বসবাসকারী অপর একজন নারী অভিভাবক বলেন, স্কুল ছুটির পর তাঁর ছেলে বাসায় গিয়ে জানায় তার পা ব্যথা করছে।

স্কুলে পাওয়া যায় আরও অনেক অভিভাবককে। অন্তত সাতজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, তাঁদের ছেলেকে অন্য স্কুলে বদলি করে নেওয়ার চিন্তা করছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর বলা হয়েছে, এমনিতে বদলি সনদ (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট-টিসি) দেওয়া সম্ভব নয়, ভর্তি করানোর পর তা দেওয়া যেতে পারে।

একজন নারী অভিভাবক বলেন, তাঁর ছেলে অন্য একটি ভালো স্কুলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এখন দুই স্কুলেই ভর্তির টাকা খরচ হবে। মতিঝিল মডেল স্কুলে আবার ভর্তি করাতে ৭ হাজার টাকা দিতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্কুলের প্রতিটি শ্রেণিতেই পুরোনো শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি ৭ হাজার এবং নতুনদের জন্য ৮ হাজার টাকা করে। এ ছাড়া বেতন আগে ছিল প্রতি মাসে ৮০০ টাকা, অভিভাবকেরা শুনেছেন এবার ২০০ টাকা বাড়ানো হবে।

একজন অভিভাবক বলেন, স্কুলের পড়াশোনার মান দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এবার জেএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ২৪৯ জনের মধ্যে মাত্র ১২৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাঁর সন্তান এই তালিকায় নেই। তাই তিনি তাঁর সন্তানকে নিয়ে অন্য স্কুলে যাওয়ার কথা ভাবছেন।

লিফট বসানোর খবর নেই

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান শাখা মতিঝিলের মূল ভবনের উচ্চতা ৬ তলা ছিল। ২০১৪ সালে ৯ তলা করা হয়। এ সময় লিফট বসানোর বিষয়টি বারবার সামনে আসে। গত ছয় বছরে লিফট বসানো নিয়ে কর্তৃপক্ষ এবং পরিচালনা কমিটি কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। ২০ অক্টোবর প্রথম আলোয় ‘ভারী ব্যাগ নিয়ে ৯ তলায় হেঁটে ওঠে শিক্ষার্থীরা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ নিয়ে নানা তোড়জোড় হয়, কিন্তু তা পরে থেমে যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। পালা করে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তম, অষ্টম ও নবম তলায় ক্লাস হয়। মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সেলিনা শামসী বলেছিলেন, ‘নানা কারণে এত দিন লিফট লাগানো যায়নি। তবে সম্প্রতি একটি বেসরকারি ব্যাংকের কাছে তাঁরা লিফট বসানোর জন্য অনুদান পেতে আবেদন করেছেন। ব্যবস্থাপক বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।’

গত বৃহস্পতিবার গিয়ে দেখা গেল, লিফট লাগানো দূরে থাক, এটি বসানোর জন্য যে প্রাথমিক প্রস্তুতি প্রয়োজন, তার কোনো নমুনাও নেই। যোগাযোগ করা হলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রথম আলোকে বলেন, আগের চেয়ারম্যান (আওলাদ হোসেন) চলে যাওয়ার পর গত দুই মাস পরিচালনা কমিটির কোনো সভা হয়নি। যার জন্য লিফটের বিষয়ে কোনো আলোচনা করা যায়নি। নতুন চেয়ারম্যান (শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাজমুল হক) আসার পর তাঁকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই সভা হবে এবং বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। এ ছাড়া ব্যাংক এশিয়ার কাছে আগেই লিফটের জন্য অনুদান চাওয়া হয়েছে।

স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের বদলি সনদ না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষকেরা ভালো শিক্ষার্থীদের যেতে দিতে চান না। তবে এতে বাধ্যবাধকতা নেই। বেতন বাড়ানোর বিষয়েও এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন