বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকার মহানগর জেনারেল হাসপাতালে ১৫০টি শয্যা আছে। হাসপাতালটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। গত বছরের মার্চে দেশে করোনোভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর এই হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে শুধু করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়। অবশ্য তখন আইসিইউ ছিল না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এখানে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার করোনা রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তখন ৩০ জন চিকিৎসক, ৩৫ জন নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী মিলিয়ে মোট ৯০ জনকে পদায়ন করা হয়েছিল। আর হাসপাতালের নিজস্ব জনবল রয়েছে ১০৬ জন। এর মধ্যে চিকিৎসক ১৯ জন, নার্স ১০ জন। এ বছরের মার্চ থেকে দেশে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে করোনা রোগীদের জন্য ১১০টি শয্যা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। এসব শয্যায় এখন সাধারণ রোগীদের ভর্তি করা হচ্ছে না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইসিইউ স্থাপন করার পরও এসব চালু না করার কারণে পেছনে যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাফিলতি রয়েছে, এটা স্পষ্ট। কোনো ধরনের জবাবদিহি না থাকায় করোনা মহামারির এই সংকটকালেও আইসিইউ চালু না করে তা ফেলে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও মুখপাত্র অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা প্রথম আলোকে বলেন, সারা দেশেই করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য জনবল দিতে হচ্ছে। মহানগর জেনারেল হাসপাতালেও জনবল দেওয়া হবে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

যেভাবে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে সারা দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউতে রোগীর চাপ বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, করোনার জন্য নির্ধারিত রাজধানীর ১৬টি সরকারি হাসপাতালের মধ্যে ১১টিতেই গতকাল বুধবার কোনো আইসিইউ শয্যা খালি ছিল না।

ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রকাশ চন্দ্র রায় প্রথম আলোকে বলেন, করোনো রোগীদের চিকিৎসা দিতে তাঁরা হাসপাতালটি চালু করতে চান। একাধিকবার জনবলের চাহিদা দেওয়ার পরও অধিদপ্তর থেকে সাড়া পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, করোনার রোগীদের সেবা ও চিকিৎসা দিতে ২৫ জন চিকিৎসক, ৬ জন পরামর্শক, ৩০ জন নার্স, ৮ জন অবেদনবিদ (এনেসথেসিস্ট), ৬ জন মেডিকেল স্পেশালিস্ট, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ২৪ জন, ওয়ার্ডবয় ১৬ জন, ২ জন কম্পিউটার অপারেটর এবং ৬ জন টেকনোলজিস্ট (ল্যাবে ৪ জন, রেডিওলজিতে ২ জন) চেয়েছেন তাঁরা। কিন্তু এখন পর্যন্ত অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় তাঁদের কিছু জানায়নি।

সিটি করপোরেশনের অর্গানোগ্রাম (জনবল কাঠামো) অনুযায়ী, মহানগর জেনারেল হাসপাতালে জনবল থাকার কথা ১৬৪ জন। কিন্তু বর্তমানে আছেন ১০৬ জন। করোনার চিকিৎসা চালু হলে বিদ্যমান জনবল দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া যাবে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে তারা জনবলের যে চাহিদা দিয়েছে, তা পাওয়া গেলে আপাতত ৫০ থেকে ৬০টি শয্যায় চিকিৎসা দেওয়ার কাজ শুরু করা যাবে।

হাসপাতালে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বলছেন, করোনো রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে অধিদপ্তরের নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকে এখানে অন্য রোগীদেরও ভর্তি করাতে পারছেন না। উভয়সংকটে পড়েছেন তাঁরা। হয় করোনা রোগীর চিকিৎসা হবে নয়তো সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা চলবে—এ বিষয়ে শিগগিরই সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যসচিব করোনা চিকিৎসার জন্য নতুন স্থান খুঁজছেন। অথচ রাজধানী ঢাকাতেই একটি হাসপাতাল অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। তাতে আইসিইউ ও এইচডিইউ সুবিধা আছে। এরপরও হাসপাতালটি কেন ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, সরকার ফিল্ড হাসপাতালের চিন্তাভাবনা করছে। সেখানেও জনবল লাগবে। তাহলে মহানগর জেনারেল হাসপাতালে জনবল দিতে সমস্যা কোথায়। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে উত্তর সিটির হাসপাতালে লোকবলসহ চিকিৎসা চালু হয়েছে। তাহলে দক্ষিণ সিটির এই হাসপাতালটি কী অপরাধ করল? বুড়িগঙ্গার ওপারে কেরানীগঞ্জ এলাকায় বহু মানুষের বসবাস। জেনারেল হাসপাতাল করোনার চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করা হলে কেরানীগঞ্জসহ পুরান ঢাকার বহু মানুষের সুবিধা হবে। আইসিইউ স্থাপনের আট মাস পরও তা চালু করতে না পারা দায়িত্বহীনতা।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন