মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে আজ সচিবালয়ের ২ নম্বর গেটের সামনে থেকে গুলিস্থানের পীর ইয়ামেনি মার্কেট পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। এ সময় মাস্ক না পরার দায়ে কয়েকজনকে জরিমানা করেন আদালত।
মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে আজ সচিবালয়ের ২ নম্বর গেটের সামনে থেকে গুলিস্থানের পীর ইয়ামেনি মার্কেট পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। এ সময় মাস্ক না পরার দায়ে কয়েকজনকে জরিমানা করেন আদালত। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

গুলিস্তান-বাবুবাজার এলাকায় ভ্যান চালান মো. ইমন। তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন সচিবালয়ের ২ নম্বর গেটের বিপরীত পাশে। মুখে মাস্ক ছিল না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে পড়তেই তাঁর স্বীকারোক্তি, ‘মাস্ক হারায়ে গেছে। জরিমানা দেওয়ার টাকাও নাই।’

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচিবালয় ও গুলিস্তান এলাকায় মাস্ক নিয়ে অভিযান চলে। সেখানেই মো. ইমনের মতো অনেকেই মাস্কবিহীন অবস্থায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মুখে পড়েন। মো. ইমনকে আদালত একটি বিনা মূল্যের মাস্ক দেন এবং মাস্ক পরা বিষয়ে সচেতন করেন।

অভিযান জিরো পয়েন্টের দিকে এগোতেই মোটরসাইকেলে এক পুলিশ সদস্যকে দেখে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে থামান। তাঁর মুখেও মাস্ক ছিল না। মোটরসাইকেল থামিয়ে তিনি মাস্ক পরেন। আদালত তাঁকে সতর্ক করে দেন। তবে এই পুলিশ সদস্যকে কোনো জরিমানা করা হয়নি।

জিরো পয়েন্ট মোড়ে কদমতলী থেকে দিয়াবাড়ি রুটের একটি বাস থামিয়ে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাস্ক ছাড়া কয়েকজন যাত্রী থাকায় ওই বাসের কন্ডাক্টরকে ৩০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

পীর ইয়ামেনী মার্কেটের আলামিত ক্যাপ হাউস নামের একটি দোকানের কর্মচারী মো. আসাদুল্লাহ মাস্ক ছাড়াই ছিলেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট মাস্কের বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই তিনি মাস্ক পরে বলেন, ‘মাস্ক পরেই থাকি। মাত্রই নামাজ থেকে আসছি, তাই মুখে ছিল না।’ তাঁকে ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পীর ইয়ামেনী মার্কেটের সঙ্গেই মো. রাব্বির একটি টেলিকমের দোকান। থুতনির নিচে মাস্ক নিয়ে তিনি ক্রেতা সামলাচ্ছিলেন। তাঁর দোকানে মাস্কও বিক্রি হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে জরিমানা করে সতর্ক করেন।

default-image

সচিবালয়ের বিপরীত দিকে এক রিকশায় দুজন যাত্রী ও চালকের কারও মুখেই মাস্ক ছিল না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে পড়ে পরনের স্কার্ফ দিয়েই যাত্রী দুজন মুখ পেঁচিয়ে নেন। অন্যদিকে রিকশাচালক বলেন, ‘গ্যারেজে রিকশায় মাস্ক ছিল।

আরেকজন চুরি করে নিছে।’ এই তিনজনকেই বিনা মূল্যের মাস্ক দিয়ে সতর্ক করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখে অভিযান এলাকার আশপাশে যারা ছিল, তারা দ্রুত পকেট থেকে মাস্ক করে পরে নেয়। সচিবালয় এলাকায় মাস্ক নিয়ে অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজ্জ্বল কুমার হালদার। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘অভিযানের কিছু সুফল দেখা যাচ্ছে। মাস্ক পরার সংখ্যা বেড়েছে। মানুষ সচেতন হচ্ছে।’ তিনি জানান, মাস্ক না পরার কারণ হিসেবে বেশির ভাগই হারিয়ে গেছে, মনে থাকে না—এসব কারণ দেখায়। তবে এসবকে তিনি অজুহাত বলেই মনে করেন।

উজ্জ্বল কুমার হালদার প্রথম আলোকে বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে ১ ঘণ্টার অভিযানে আজ সচিবালয় ও জিরো পয়েন্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭টি মামলা ও ১ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন