default-image

করোনা টিকার ব্যাপারে কোনো ধরনের সন্দেহ পোষণ না করে স্বাস্থ্যসুরক্ষার জন্য সবাইকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

আজ রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরের ৩০০ শয্যা করোনা হাসপাতালের পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা–বাণিজ্যের পাশাপাশি চিকিৎসাব্যবস্থা ভালো হওয়া প্রয়োজন।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আপনারা হয়তো ভুলে যাননি করোনার উৎপত্তি এই নারায়ণগঞ্জ থেকে হয়েছিল।’ টিকা নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদেরও এই টিকা গ্রহণ করে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করার পরামর্শ দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আরও বলেন, ‘এই টিকা সবচেয়ে নিরাপদ টিকা এবং এর কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এই টিকার মাধ্যমেই আমরা করোনাকে দূর করব।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘করোনা এখনো চলে যাচ্ছে না, মাস্ক পরার বিষয়টি ভুলে গেলে চলবে না। মাস্ক পরতে থাকবেন, টিকা নিতে থাকবেন। ইনশা আল্লাহ একপর্যায়ে এ দেশ থেকে করোনা বিদায় নেবে।’

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমরা অনেক দেশ থেকে ভালো আছি। আশপাশের দেশগুলো এখনো লকডাউন খুলতেই পারে নাই। ইউরোপ, আমেরিকা লকডাউনে আছে, তাঁদের অর্থনীতি ধ্বংসপ্রাপ্ত। কিন্তু বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এখনো অনেক ভালো আছে। সবাই কাজকর্ম করে খেতে পারছে, ব্যবসা–বাণিজ্য চলছে; কারণ, করোনা নিয়ন্ত্রণে আছে।’

জাহিদ মালেক আরও জানান, টিকার ব্যপারে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা এসেছে। প্রতিদিন অন্তত দুই লাখ মানুষ টিকা গ্রহণ করছেন। এই টিকার মাধ্যমেই বাংলাদেশ করোনমুক্ত হবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই পরিদর্শনের সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মান্নান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খুরশীদ আলম, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ, জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম, জেলা সভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ ও ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল বাশার প্রমুখ।

স্থানীয় সাংসদ শামীম ওসমান শহরের শায়েস্তা খান রোডের পুরাতন কোর্ট এলাকায় নবনির্মিত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনকে হার্ট চিকিৎসার জন্য একটি আধুনিক হাসপাতাল করার দাবি জানান।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেন, ‘যেহেতু ভবনটি আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে, আমরা এ বিষয়ে যথাযথ গুরুত্বসহ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এই ভবন সরকারি অর্থায়নে তৈরি হয়ে তিন বছর ধরে পড়ে আছে, কিন্তু মানুষের কোনো কাজে লাগছে না। আমরা আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে এই ভবন নেওয়ার চেষ্টা করব। ভবনটি যদি আমরা নিতে পারি, তাহলে অবশ্যই এখানে সুন্দর একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।’

পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শহরের শায়েস্তা খান রোডের পুরাতন কোর্ট এলাকায় নবনির্মিত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন পরিদর্শনে যান।
এর আগে সকালে নগরের খানপুরে কুমুদিনী ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস অ্যান্ড ক্যান্সার রিসার্চের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন
করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন