default-image

বরিশালসহ দক্ষিণ উপকূলে করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। গত ১৬ মার্চের পর থেকে বিভাগের ছয় জেলায় সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ১৬ মার্চ থেকে গত শনিবার পর্যন্ত ১৯ দিনে এই বিভাগে সংক্রমিত হয়েছেন ১ হাজার ৯৯১ জন। ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হচ্ছে।

বিভাগের সবচেয়ে বড় সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) কোনো শয্যা খালি নেই। আরও অন্তত ২০ জন মুমূর্ষু রোগী আছেন, যাঁদের জরুরি আইসিইউ সেবা প্রয়োজন। ১৫০ শয্যার করোনা ওয়ার্ডেও শয্যা প্রায় পূর্ণ। এই অবস্থায় বিকল্প হাসপাতাল প্রস্তুত করতে তাগিদ দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এই হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ১২টি। এর কোনো শয্যা খালি নেই। ১৫০ শয্যার করোনা ওয়ার্ডে ১২ শয্যার আইসিইউ ওয়ার্ডে মুমূর্ষু রোগীদের ঠাঁই হচ্ছে না। গত শনিবার ১২টি শয্যাতেই চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন। এখানে আরও অন্তত ২০ জন মুমূর্ষু রোগী আছেন, যাঁদের জরুরি আইসিইউ সেবা প্রয়োজন। বিভাগের ছয় জেলায় এই হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোনো হাসপাতালে আইসিইউর সুবিধা নেই। ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের এই হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই। করোনা পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হওয়ায় এ নিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এ জন্য পরিস্থিতি সামাল দিতে এখনই হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল সূত্র বলছে, এই হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। কিন্তু আইসিইউ ওয়ার্ডে স্থায়ী কোনো চিকিৎসক নেই। ধার করা চিকিৎসক দিয়ে সাধ্যমতো আইসিইউর সেবা চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

গত শনিবার বেলা দুইটা পর্যন্ত এই হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন ১১৮ জন রোগী। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২১ জনের। ১২টি আইসিইউ বেডের সব কটিই রোগীতে পরিপূর্ণ। আরও অন্তত ২০ জন আছেন, যাঁদের জরুরি আইসিইউ সেবা প্রয়োজন। কিন্তু বেড না থাকায় তাঁরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। করোনা ওয়ার্ডের আইসিইউতে তিন পালায় মাত্র ৩ জন এবং করোনা ওয়ার্ডে তিন পালায় দায়িত্ব পালন করছেন ১৫ জন চিকিৎসক, যা প্রয়োজনের তুলনায় ৬০ ভাগ। পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা বা রোগীর সহায়তার জন্য এই ওয়ার্ডে কোনো চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নেই। পেটেভাতে নামমাত্র রোগীর সেবা করেন বহিরাগত অন্তত ২০ জন নারী।

গত ২৪ ঘণ্টায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের আরটি–পিসিআর ল্যাবে ১৭০ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩০ জনের।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন