বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জহুরুলের মতো নিম্ন আয়ের অনেকেই আছেন যাঁরা স্বজনদের চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত প্রতিজনের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধসহ মোট চিকিৎসা ব্যয় হচ্ছে ৪০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। গড়ে ১৫-২০ দিন চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে মারাও যাচ্ছেন কেউ কেউ। রোগীর স্বজনেরা বেশির ভাগ ওষুধ কিনছেন বাইরে থেকে।

হাসপাতালের করোনা ইউনিটের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক কামাল হোসেন জানান, যাঁরা করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, তাঁদের ইয়েলো জোনে রেখে সাধারণ জ্বর-সর্দি-কাশির ওষুধ দেওয়া হয়। নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ হলে এবং শ্বাসকষ্ট থাকলে রেড জোনে রাখা হয়। সে ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে রেমডিসিভির ইনজেকশন, ভিটামিন ডিসহ ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়।

গতকাল বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, প্যাথলজি বিভাগের করিডরে রোগীর স্বজনদের ভিড় কম। অন্যান্য কক্ষে ভিড় বেশি। প্রত্যেক রোগীর সঙ্গে তিন-চারজন করে স্বজন। কর্তব্যরত একজন নার্স জানান, আয়া ও ওয়ার্ড বয় মিলে চারজন দায়িত্ব পালন করছেন এখানে। তিনি বলেন, রোগীর চাপ অনুযায়ী সর্বনিম্ন আটজন আয়া ও ওয়ার্ড বয় দরকার। ওয়ার্ড বয়-সংকটে অনেক সময় রোগীর স্বজনেরা অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে ছোটাছুটি করছেন।

করিডরের মাঝামাঝি জায়গায় একটি ট্রলিতে বিভিন্ন ওষুধ ও স্যালাইন নিয়ে আছেন ছয়জন নার্স। কাউন্টারে আছেন আরও কয়েকজন। কারও সঙ্গে কথা বলার ফুরসত নেই তাঁদের। রোগীর স্বজনেরা ঘিরে আছেন চারদিক থেকে। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র দেখে ওষুধ মিলিয়ে দিচ্ছেন কেউ কেউ। কেউ শুনছেন স্বজনের অভিযোগ।

প্যাথলজির করিডরে ১৬টি শয্যা। এর মধ্যে মেঝেতে বিছানা আছে ১০টি। নাকে অক্সিজেনের নল লাগানো অবস্থায় আছেন জামিলা বেগম। পাশে বসে খেলছে ছয় বছর বয়সী মেয়ে। ঠাকুরগাঁও থেকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হয়েছেন গত রোববার। এখনো শয্যা পাননি। ওই ইউনিটের মেঝেতে আছেন আবদুস সোবহান। তাঁর এক স্বজন বলেন, ‘বেডে শুতে চায় না, ভয় করে। তাই মেঝেতে রেখেছি।’

ফ্লু কর্নার-১-এর ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বে আছেন সিনিয়র স্টাফ নার্স রেশমা আক্তার। তিনি জানান, এই ইউনিটের ৪২ জন রোগী সেন্ট্রাল অক্সিজেনের আওতায় আছেন। অন্যদের সিলিন্ডারের মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। তারপরও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘রোগীর সঙ্গে আসা স্বজনেরা কথা শুনতে চান না​। স্বাস্থ্যবিধি মানতে চান না​। পরশু এক রোগীর স্বজন আমাদের অবহিত না করে একাই পাঁচটি সিলিন্ডার নিয়ে রোগীর বেডের নিচে রেখেছেন।’

প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করলে ডান দিকে ফ্লু কর্নার (নমুনা পরীক্ষা) ও টিকাদানকেন্দ্র। দুই জায়গাতেই দেখা গেল, দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন সেবাগ্রহীতারা। দু-একজন আনসার সদস্য চোখে পড়লেও তৎপরতা নেই। গা-ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে আছেন লোকজন।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আবু রেজা মো. মাহমুদুল হক বলেন, ‘বর্তমানে হাসপাতালে স্যালাইন, এজিথ্রোমাইসিন, মেরোপেনাল, সিপ্রোক্সিন, প্যারাসিটামল এবং হিস্টামিন জাতীয় ওষুধের সরবরাহ আছে। করোনা রোগীদের চিকিৎসায় ছয়টি রেমডিসিভির ইনজেকশনের ডোজ দেওয়া হয়। কিন্তু দুই মাস আগে ৩০টি ইনজেকশন পাই। তারপর থেকে এটার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ কারণে রোগীদের ইনজেকশনটি বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, করোনা ইউনিটে আরও অন্তত ৩৫ জন চিকিৎসক দরকার। নার্স দরকার ৪০ জন। ইতিমধ্যে ৩০ জনের বেশি নার্স করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এসব কারণে চিকিৎসাসেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে চাহিদা দেওয়া হয়েছে। জনবলসংকট কেটে গেলে রোগীদের আর কোনো অভিযোগ থাকবে না।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন