default-image

১. করোনার টিকা নেওয়া কি নিরাপদ? এ প্রশ্ন এখনো অনেক মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। টিকা দেওয়া শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। শুধু আমাদের দেশেই নয়, ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্রেও মানুষের মধ্যে টিকা নিতে ইতস্তত ভাব দেখা দিয়েছে। সিবিএসের এক নতুন জরিপে দেখা যায়, রিপাবলিকানদের এক-তৃতীয়াংশ টিকা নিতে চায় না, আরও ২০ শতাংশ টিকা নেবে কি না, নিশ্চিতভাবে বলতে পারেনি। ডেমোক্র্যাটদের ১০ শতাংশ টিকায় অনীহা দেখিয়েছে। আগের জরিপেও প্রায় এ রকমই মতামত এসেছিল। অথচ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ক্ষমতাসীন থাকার শেষ দিকে চুপেচাপে টিকা নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বিষয়টিকে উৎসাহিত করেননি। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিষিদ্ধ করেছিল। সে তুলনায় আমাদের দেশে বরং প্রশ্ন কম। একেবারে যে নেই, তা নয়। কিন্তু উৎসাহের অভাব রয়েছে। যদিও বিশ্বের সেরা ভাইরোলজিস্ট ও বিজ্ঞানীরা বলছেন, টিকা নেওয়ার কারণে বিচ্ছিন্ন কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও সেটা তেমন কিছু না। করোনার টিকা নিরাপদ বলে তাঁরা নিশ্চিত করেছেন।

২. অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কতটা নিরাপদ? এ প্রশ্নও মানুষকে বেশ আলোড়িত করছে। ইউরোপের জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি প্রভৃতি দেশ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাদান স্থগিত রেখেছিল। কিন্তু ইউরোপিয়ান মেডিকেল এজেন্সি ১৮ মার্চ জানিয়েছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। এ ঘোষণার পর ডজনখানেক দেশ তাদের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করতে পারে। এ টিকাই এখন আমরা দেশে নিচ্ছি। তাই আমাদের কারও মনেও এখন আর প্রশ্ন থাকার কারণ নেই।

বিজ্ঞাপন

৩. কিন্তু এই অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় নাকি রক্ত জমাট বাঁধে? এ প্রশ্ন বেশ আলোচিত। এ বিষয়ে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার অনলাইনে সম্প্রতি একটি লেখায় পরিষ্কার উল্লেখ করা হয়েছে, অক্সফোর্ডের টিকায় রক্ত জমাট বাঁধার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে একমত।

৪. টিকা নিলে নাকি করোনা হয়? এ রকম প্রশ্নও অনেকে করেন। আসলে এর কোনো ভিত্তি নেই। টিকায় নিষ্ক্রিয় ভাইরাস ব্যবহার করা হয়। এটা দেহে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটাতে পারে না। এটা শুধু শরীরকে ভাইরাসের অবয়বটা চিনিয়ে দেয় যেন সক্রিয় ভাইরাস দেহে প্রবেশ করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তাকে সঙ্গে সঙ্গে চিনতে পারে এবং আক্রমণ করে ভাইরাস নির্মূল করতে পারে।

৫. টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়াটা নাকি ভালো লক্ষণ? হ্যাঁ, এ রকম একটি কথা অনেকে বলেন এবং বিশ্বাস করেন। টিকা গ্রহণের পর দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উজ্জীবিত হয়। এর ফলে সামান্য জ্বর, মাথাব্যথা, পেটব্যথা বা অন্য কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তার মানে বোঝা গেল ওষুধে ধরেছে। এটা ঠিকই আছে। কিন্তু সবার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এক রকম হয় না। কারও হয়তো তেমন কিছু প্রতিক্রিয়া নাও দেখা দিতে পারে, শুধু হাতে সুঁই ফোটানোর ব্যথা ছাড়া অন্য কিছু হয়তো তিনি অনুভব নাও করতে পারেন। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে টিকা বিফলে গেল। টিকা নিলে কাজ হবেই।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে করণীয়

দেশে এখন প্রতিদিনই করোনা সংক্রমণের হার বাড়ছে। এটা আশঙ্কাজনক। আমাদের সংক্রমণের হার ২ শতাংশের কাছাকাছি চলে এসেছিল। এখন তো ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেল। মৃত্যুহারও সমান তালে বাড়ছে। হাসপাতালে রোগীর বেডে টান পড়ছে। সবার মধ্যে একধরনের উদাসীনতার ভাব চলে এসেছে বলেই হয়তো করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এটা দূর করতে হবে। জোরেশোরে টিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া এখন প্রধান কাজ। যত বেশি টিকা, তত বেশি দ্রুত সমস্যা কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা। তাই সবাইকে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

শুধু তা-ই নয়, মাস্ক পরা এবং ভিড় এড়িয়ে চলার ওপর জোর দেওয়া দরকার। এখন নতুন ধরনের স্ট্রেইন এসেছে। এরা ভয়ংকর। খুব কমসংখ্যক ভাইরাস দ্রুত সংক্রমণ ঘটাতে পারে। আবার সংক্রমণের তীব্রতাও বেশি। তাই অনেক দেশে মানুষ এখন একটি নয়, দুটি মাস্ক পরেন। প্রথমে সার্জিক্যাল মাস্ক, এর ওপর কাপড়ের মাস্ক। এতে সুবিধাটা হলো মাস্ক ভালোভাবে ত্বকের সঙ্গে সেঁটে থাকে, সংক্রমণের সুযোগ কমে।

স্কুল না খুললেও পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে হবে

যদি সংক্রমণের হার না কমে, তাহলে হয়তো কর্তৃপক্ষ নতুন সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ নিশ্চয়ই নিরাপদ রাখতে হবে। তবে একই সঙ্গে দেখতে হবে, লেখাপড়ায় যেন ছেদ না পড়ে। এদিকে জোর দেওয়া কর্তব্য। সে ক্ষেত্রে অনলাইনে শিক্ষার প্রসার ঘটানো দরকার। শিক্ষার্থীদের কাছে ইন্টারনেট সহজলভ্য করলে শিক্ষার ঘাটতি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব।


আব্দুল কাইয়ুম, মাসিক ম্যাগাজিন বিজ্ঞানচিন্তার সম্পাদক
[email protected]

বিজ্ঞাপন
করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন